১৭ সেপ্টেম্বর থেকে গঙ্গার ঘাটে ১ লক্ষ প্রদীপ প্রজ্জ্বলন! প্রধানমন্ত্রীর বর্ণাঢ্য কর্মজীবন নিয়ে নবান্নের বিরাট নির্দেশিকা

প্রধানমন্ত্রী ও মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে নরেন্দ্র মোদির বর্ণাঢ্য প্রশাসনিক জীবনের ২৫ বছর পূর্তি উদযাপনে এবার এক নজিরবিহীন ও বড়সড় উদ্যোগ নিল রাজ্য সরকার। আগামী ১৭ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হয়ে ১০ অক্টোবর পর্যন্ত টানা ২৪ দিন ধরে পুরো রাজ্যজুড়ে অত্যন্ত জাঁকজমকের সঙ্গে পালিত হবে ‘সেবা সংকল্প অভিযান’। এই বিষয়ে রাজ্যের তথ্য ও সংস্কৃতি দফতর থেকে একটি বিস্তারিত ও পরিমার্জিত নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে, যাতে স্বাক্ষর করেছেন রাজ্যের মুখ্যসচিব মনোজ কুমার আগরওয়াল এবং তথ্য ও সংস্কৃতি সচিব সৌমিত্র মোহন।
নবান্ন সূত্রে জানা গেছে, সরকারি পরিষেবা মানুষের আরও দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়া এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধিই এই ২৪ দিনব্যাপী অভিযানের মূল লক্ষ্য। আগামী ১৭ সেপ্টেম্বর ঠিক সন্ধ্যা ৭টায় ‘আশীর্বাদের প্রদীপ’ প্রজ্জ্বলনের মধ্য দিয়ে এই মেগা কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক সূচনা হবে। ‘বিকশিত ভারত ২০৪৭’-এর সংকল্প সামনে রেখে রাজ্যের সমস্ত সরকারি প্রকল্পের উপভোক্তারা এই প্রদীপ জ্বালাবেন। প্রতিটি বিধানসভা কেন্দ্রের জন্য স্থানীয় প্রশাসনকে ৫০ হাজার প্রদীপ সংগ্রহের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি, পদ্ম পুরস্কারপ্রাপ্ত বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব এবং প্রবীণ যোদ্ধাদেরও এই বিশেষ অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ জানানো হবে।
ওই দিনই কলকাতার গঙ্গার ঘাটে ১ লক্ষ প্রদীপ জ্বালিয়ে এক সুদৃশ্য ও বিশেষ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হচ্ছে, যেখানে স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রী উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে। শুধু গঙ্গার ঘাট নয়, সেদিন কলকাতা সহ রাজ্যের সমস্ত সরকারি ভবনে বিশেষ আলোকসজ্জা করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এর পাশাপাশি ১৭ থেকে ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত স্কুল ও শিক্ষা দফতরের উদ্যোগে ছাত্রছাত্রী ও শিক্ষকদের নিয়ে প্রবন্ধ এবং অঙ্কন প্রতিযোগিতার মতো কর্মসূচি ‘আমার স্বপ্নের ভারত—চিত্র সেবা’ পালিত হবে। পঞ্চায়েত থেকে শুরু করে বিভিন্ন জনবহুল এলাকায় সংগীত ও নাটকের মাধ্যমে সরকারি জনকল্যাণমূলক প্রকল্পগুলি তুলে ধরতে ‘নমো সেবা—অজানা কাহিনী’ কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। এছাড়া আগামী ২৫ থেকে ২৭ সেপ্টেম্বর অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রগুলিতে নারী ও শিশুদের পুষ্টি ও স্বাস্থ্য বিষয়ক ‘অঙ্গন মিলন সেবা’ অনুষ্ঠিত হবে।
কর্মসূচির পরবর্তী পর্যায়ে আগামী ৭ অক্টোবর রাজ্যজুড়ে ম্যারাথন ও সাইকেল র্যালির মাধ্যমে ‘সেবা জ্যোতি কলস যাত্রা’ পালিত হবে এবং প্রতিটি জেলায় একটি করে সেবা জ্যোতি কলস স্থাপন করা হবে। এছাড়া ৯ অক্টোবর ‘সেবা ফার্স্ট ইনোভেশন চ্যালেঞ্জ’-এর মাধ্যমে ছাত্রছাত্রী, পেশাদার ও স্টার্ট-আপগুলিকে একত্রিত করে উদ্ভাবনী প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়েছে, যার আঞ্চলিক কেন্দ্র হিসেবে কলকাতাকে প্রস্তাব করা হয়েছে।
সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, এই বিশাল কর্মযজ্ঞ বাস্তবায়িত করার জন্য আলাদা করে কোনো বাড়তি বাজেট বরাদ্দ করা হচ্ছে না। প্রতিটি দফতরকে তাদের নিজ নিজ বাজেট থেকেই এই খরচ মেটানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পুরো অভিযানের সুচারু তদারকির জন্য প্রবীণ আইএএস আধিকারিক ও মন্ত্রীদের জেলাভিত্তিক দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। ইতিমধ্যেই জেলাশাসক এবং কলকাতা পুরসভার কমিশনারকে দ্রুত প্রস্তুতি বৈঠক ডাকার নির্দেশ পাঠিয়েছে নবান্ন। কেন্দ্রীয়ভাবে অনুমোদিত প্রচারসামগ্রী বা নকশায় কোনো পরিবর্তন না করে, প্রতিদিনের কর্মসূচির ছবি ও ভিডিও তথ্য ও সংস্কৃতি দফতরে পাঠানোর কড়া নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।