অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের আর্জিতে বড় পদক্ষেপ! ২০ জন বাগী এমপি-র বিরুদ্ধে নোটিস জারি শীর্ষ আদালতের

তৃণমূল কংগ্রেসের বিক্ষুব্ধ সাংসদদের (Rebel MPs) পদ খারিজের আবেদন নিয়ে অবশেষে কড়া পদক্ষেপ গ্রহণ করল দেশের সর্বোচ্চ আদালত। লোকসভার স্পিকারের কাছে ঝুলে থাকা পদ খারিজের আর্জিগুলি একটি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে নিষ্পত্তির নির্দেশ চেয়ে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই মামলার প্রেক্ষিতে সুপ্রিম কোর্ট এবার লোকসভার সর্বাধিনায়ক কার্যালয় ও সংশ্লিষ্ট বিক্ষুব্ধ সাংসদদের উদ্দেশে নোটিস জারি করল।
কেন এই আইনি লড়াই?
রাজনৈতিক মহলে শোরগোল ফেলা এই বিরোধের সূত্রপাত ঘটে যখন তৃণমূলের একাধিক লোকসভা সাংসদ দল বিরোধী অবস্থান নিয়ে পৃথক গোষ্ঠীর সঙ্গে যুক্ত হন। তৃণমূলের দাবি, মূল দলের প্রতীকে জয়ী হয়ে পরবর্তীতে অন্য রাজনৈতিক শিবিরের সঙ্গে মেলামেশা বা পৃথক গোষ্ঠীর স্বীকৃতি চাওয়া দলত্যাগবিরোধী আইনের (Anti-Defection Law) সরাসরি লঙ্ঘন।
তৃণমূল নেতৃত্বের অভিযোগ:
-
বিলম্বের অভিযোগ: সংবিধানের দশম তফসিল অনুযায়ী বহু আগেই স্পিকারের কাছে সংশ্লিষ্ট বিধায়ক ও সাংসদদের পদ খারিজের (Disqualification Petition) জন্য দরখাস্ত করা হয়েছিল। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না হওয়ায় বিষয়টিতে প্রশাসনিক ও আইনি জটিলতা তৈরি হচ্ছে।
-
সময়ের বাধ্যবাধকতা: শীর্ষ আদালতের সুনির্দিষ্ট পর্যবেক্ষণ থাকা সত্ত্বেও পদ খারিজের আবেদনগুলি ঝুলিয়ে রাখা হচ্ছে। তাই নির্দিষ্ট সময়সীমার (Time-bound decision) মধ্যে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার নির্দেশের আর্জি জানিয়ে আবেদন করা হয়।
আদালতের বার্তা ও পরবর্তী পদক্ষেপ
প্রধান বিচারপতি সুপ্রিয়া কান্তের নেতৃত্বাধীন সুপ্রিম কোর্টের বেঞ্চ পুরো বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে গ্রহণ করে নোটিস জারি করার সিদ্ধান্ত দেন। আদালতের পর্যবেক্ষণে স্পষ্ট করা হয়েছে যে, জনপ্রতিনিধিদের পদ খারিজ সংক্রান্ত মামলাগুলি অহেতুক ফেলে না রেখে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে নিষ্পত্তি হওয়া প্রয়োজন।
আইন বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, সুপ্রিম কোর্টের এই নোটিস জারির ফলে লোকসভা সচিবালয় এবং বিক্ষুব্ধ সাংসদদের দ্রুত তাঁদের অবস্থান স্পষ্ট করে জবাব পেশ করতে হবে। এই নির্দেশের ফলে রাজ্য রাজনীতিতে দলত্যাগী ও বিদ্রোহী নেতাদের আইনি ভবিষ্যৎ আবারও বড়সড় অনিশ্চয়তার মুখে পড়ল।