চাঁদিপুরের পর এবার বাংলা! দিঘার কাছেই তৈরি হচ্ছে দেশের অন্যতম বড় মিসাইল টেস্টিং হাব, তোলপাড় প্রতিরক্ষা মহলে

ভারতের প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে এক ঐতিহাসিক অধ্যায়ের সূচনা হতে চলেছে পশ্চিমবঙ্গে। ওড়িশার চাঁদিপুরের (Chandipur ITR) চাপ কমাতে এবং দেশের সামরিক শক্তিকে আরও জোরালো করতে পূর্ব মেদিনীপুর জেলার জুনপুটে (Junput) একটি নতুন অস্ত্র ও ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা কেন্দ্র (Missile and Weapon Testing Range) গড়ে তোলার প্রস্তাব অনুমোদন করেছে রাজ্য সরকার। ওড়িশার চাঁদিপুর এবং অন্ধ্রপ্রদেশের প্রস্তাবিত হাবের পর এটি হতে চলেছে প্রতিরক্ষা গবেষণা ও উন্নয়ন সংস্থার (DRDO) দেশের তৃতীয় প্রধান মিসাইল টেস্টিং সেন্টার।

কেন বেছে নেওয়া হলো পূর্ব মেদিনীপুরের জুনপুট?

বঙ্গোপসাগরের উপকূলবর্তী জুনপুট ভৌগোলিক দিক থেকে মিসাইল ও রডার পরীক্ষার জন্য অত্যন্ত কৌশলগত ও উপযুক্ত স্থান।

  • দূরত্ব ও সুবিধা: চাঁদিপুর ইন্টিগ্রেটেড টেস্ট রেঞ্জ (ITR) থেকে উপকূল বরাবর জুনপুটের দূরত্ব প্রায় ৭০ কিলোমিটার। পর্যটন কেন্দ্র দিঘা থেকেও এটি বেশ কাছাকাছি।

  • কাজের চাপ ভাগ: এতদিন ধরে ভারতের প্রায় সমস্ত ছোট ও বড় পাল্লার মিসাইল (যেমন- অগ্নি, আকাশ, পিনাকা ইত্যাদি) চাঁদিপুর থেকেই পরীক্ষা করা হতো। জুনপুটে নতুন হাব তৈরি হলে চাঁদিপুরের ওপর অতিরিক্ত কাজের চাপ অনেকটাই কমে যাবে।

  • পরীক্ষার ধরন: এই কেন্দ্রে মূলত স্বল্প পাল্লার ট্যাকটিক্যাল মিসাইল (Short-Range Missiles), আধুনিক রডার সিস্টেম, উপকূলীয় প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি এবং অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সামরিক সরঞ্জাম পরীক্ষা করা সম্ভব হবে।

প্রকল্পে গতি ও অর্থনৈতিক সম্ভাবনা

ডিআরডিও (DRDO) সূত্রে জানা গিয়েছে, জুনপুটে প্রাথমিক জমি চিহ্নিতকরণ ও অবকাঠামোগত অনুমোদনের কাজ শেষ করার পর বাস্তবায়নের কাজ দ্রুত এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। দীর্ঘদিন আটকে থাকার পর সাম্প্রতিক প্রশাসনিক ছাড়পত্র মেলায় প্রকল্পের কাজ নতুন গতি পেয়েছে।

প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের মতে, পূর্ব মেদিনীপুরের উপকূলীয় অঞ্চলে ভারতের এই হাই-টেক মিসাইল টেস্টিং হাব তৈরি হলে কেবল দেশের সীমান্ত ও উপকূল সুরক্ষাই জোরদার হবে না, বরং কর্মসংস্থান ও স্থানীয় পরিকাঠামোগত উন্নয়নের ক্ষেত্রেও এক নতুন দিগন্ত খুলে যাবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *