পুজোয় ঘুরতে যাওয়া আরও সহজ! ৪৬১ জন চালক ও কন্ডাক্টর নিয়োগের বিরাট ঘোষণা NBSTC-র

আসন্ন শারদোৎসবের মরশুমে দূরপাল্লার যাত্রীদের যাতায়াত সুগম করতে এবং ভেঙে পড়া পরিবহণ ব্যবস্থাকে নতুন জীবন দিতে একগুচ্ছ কড়া ও যুগান্তকারী পদক্ষেপ নিল উত্তরবঙ্গ রাষ্ট্রীয় পরিবহণ নিগম (NBSTC)। দীর্ঘদিন ধরে চলা কর্মীসংকট কাটাতে এবং ডিপোয় বছরের পর বছর ধরে পড়ে থাকা বাসগুলিকে দ্রুত রাস্তায় নামাতে এবার পূর্ণাঙ্গ পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে কর্তৃপক্ষ। সংস্থার তরফে জানানো হয়েছে, এজেন্সির মাধ্যমে এককালীন বড় অঙ্কে মোট ২৪৫ জন চালক এবং ২১৬ জন কন্ডাক্টর নিয়োগ করা হবে।

প্রাথমিকভাবে এক বছরের চুক্তিতে এই নিয়োগ করা হলেও কর্মীদের কাজের মান সন্তোষজনক হলে মেয়াদ বাড়ানো হবে। পাশাপাশি, পুরনো এজেন্সির অধীনে কাজ করা কর্মী ও সুপারভাইজারদের নতুন বেতন কাঠামোর আওতায় সম্পূর্ণ সুরক্ষিত রাখা হয়েছে। নিগমের সাধারণ, এক্সপ্রেস, এসি, ভলভোর পাশাপাশি প্রিমিয়াম স্লিপার বাস পরিষেবাকে আধুনিক করতে নতুন কর্মীদের অটোমেটেড ফেয়ার কালেকশন সিস্টেম (AFCS) এবং ভেহিকেল ট্র্যাকিং সিস্টেম (VTS) পরিচালনায় পারদর্শী হতে হবে।

যোগ্যতা ও আবেদনের শর্তাবলী
নিয়োগের ক্ষেত্রে কড়া মানদণ্ড নির্ধারণ করেছে নিগম। চালক পদের জন্য আবেদনকারীর বয়স ২৫ থেকে ৬০ বছরের মধ্যে হতে হবে। ন্যূনতম অষ্টম শ্রেণি পাসের পাশাপাশি তাঁদের অন্তত পাঁচ বছরের হেভি প্যাসেঞ্জার মোটর ভেহিকেল চালানোর অভিজ্ঞতা ও লাইসেন্স থাকা বাধ্যতামূলক। অন্যদিকে, কন্ডাক্টর পদের জন্য প্রার্থীদের মাধ্যমিক পাস, এক বছরের কাজের অভিজ্ঞতা এবং কন্ডাক্টর লাইসেন্স থাকতে হবে। উভয় ক্ষেত্রেই বাংলা লেখা ও পড়ার পাশাপাশি হিন্দি ও ইংরেজি পড়ার দক্ষতা জরুরি।

সপ্তাহের সাত দিনই যাত্রী পরিষেবা নিরবচ্ছিন্ন রাখতে কর্মীদের রোটেশনাল ছুটির ব্যবস্থা করা হয়েছে। সরকারি নিয়ম মেনে নির্ধারিত বেতনের অতিরিক্ত হিসেবে চালকদের জন্য ‘হেভি ডিউটি স্টিয়ারিং অ্যালাওয়েন্স’ এবং ওভারটাইমের জন্য বিশেষ সাম্মানিকের ব্যবস্থা থাকছে। পাশাপাশি কর্মী কল্যাণে ইপিএফ (EPF) এবং ইএসআই (ESI)-র মতো সামাজিক সুরক্ষাও নিশ্চিত করা হয়েছে।

আগের সরকারের আমলেই বেহাল দশা, তোপ মন্ত্রীর
বিগত সরকারের আমলের তীব্র সমালোচনা করে পরিবহণ প্রতিমন্ত্রী আনন্দময় বর্মন জানান, আগের প্রশাসনের উদাসীনতা ও দুর্নীতির কারণে উত্তরবঙ্গ রাষ্ট্রীয় পরিবহণ নিগম কার্যত পঙ্গু হয়ে পড়েছিল। চালক ও কন্ডাক্টরের অভাবে বহু নতুন এবং পুরনো বাস বছরের পর বছর ডিপোতেই ধুলো জমিয়েছে। সাধারণ মানুষকে যার চরম খেসারত দিতে হয়েছে। বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পরই এই ঐতিহ্যবাহী সংস্থাকে চাঙ্গা করতে যুদ্ধকালীন তৎপরতায় কাজ শুরু করেছে।

পুজোর আগেই সমস্ত নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে আটকে থাকা বাসগুলি রাস্তায় নামানোই এখন সরকারের প্রধান লক্ষ্য। ইতিমধ্যেই দক্ষিণবঙ্গের বিভিন্ন রুটে ৬০টি নতুন অত্যাধুনিক বাস নামানো হয়েছে এবং চলতি বছরে আরও ১০০টি নতুন বাস বহরে যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে। পুজোর স্পেশাল প্যাকেজ এবং আধুনিক প্রযুক্তির সঠিক মেলবন্ধনে রাজ্যের পরিবহণ ব্যবস্থাকে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতে বদ্ধপরিকর সরকার।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *