শেষ বেতনের ৬৭% ন্যূনতম পেনশন? অষ্টম বেতন কমিশনের ৭টি বিরাট দাবি জানুন

প্রায় ৬৫ লক্ষ কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মী ও প্রতিরক্ষা পেনশনভোগীদের জন্য অষ্টম কেন্দ্রীয় বেতন কমিশনের কার্যক্রম এখন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এক পর্যায়ে এসে পৌঁছেছে। অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি রঞ্জনা প্রকাশ দেশাইয়ের নেতৃত্বাধীন এই কমিশন বর্তমানে দেশজুড়ে বিভিন্ন রাজ্য এবং কর্মচারী-পেনশনভোগী সংগঠনগুলির সঙ্গে বৈঠক করে মতামত সংগ্রহ করছে। বিশেষ করে ২০২৬ সালের পয়লা জানুয়ারির আগে অবসর নেওয়া কর্মচারীদের পেনশন সংশোধনের বিষয়টিতে বিভিন্ন ইউনিয়ন দারুণ আগ্রহ দেখিয়েছে। এনসি-জেসিএম, এআইডিইএফ এবং বিপিসিপিএ-এর মতো একাধিক সংগঠন কমিশনের কাছে বেশ কিছু যুগান্তকারী দাবি পেশ করেছে। সারা দেশের লক্ষ লক্ষ পেনশনভোগীর স্বার্থে অষ্টম বেতন কমিশনের কাছে উত্থাপিত সেই ৭টি প্রধান দাবি নিচে আলোচনা করা হলো।
১. ন্যূনতম পেনশনে বড় রকমের বৃদ্ধি পেনশনভোগী সংগঠনগুলোর সবচেয়ে জোরালো দাবি হলো ন্যূনতম পেনশনের পরিমাণ বাড়ানো। ইউনিয়নগুলোর প্রস্তাব অনুযায়ী, ন্যূনতম পেনশন যেন কর্মচারীর সর্বশেষ প্রাপ্ত বেতনের অর্থাৎ গত দশ মাসের গড় বেতনের অন্তত সাতষট্টি শতাংশ নির্ধারণ করা হয়।
২. বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে অতিরিক্ত পেনশন বার্ধক্যে চিকিৎসা ও দৈনন্দিন খরচের চাপ সামলাতে পেনশনভোগীরা পঁয়ষট্টি বছর বয়স থেকে ধাপে ধাপে অতিরিক্ত পেনশন চালুর দাবি তুলেছেন। বয়সের ভিত্তিতে এই অতিরিক্ত পেনশনের কাঠামোটি এমনভাবে চাওয়া হয়েছে:
-
পঁয়ষট্টি বছর বয়স: মূল পেনশনের সত্তর শতাংশ
-
সত্তর বছর বয়স: মূল পেনশনের পঁচাত্তর শতাংশ
-
পঁচাত্তর বছর বয়স: মূল পেনশনের আশি শতাংশ
-
আশি বছর বয়স: মূল পেনশনের পঁচাশি শতাংশ
-
পঁচাশি বছর বয়স: মূল পেনশনের নব্বই শতাংশ
-
নব্বই বছর বা তার বেশি: মূল পেনশনের একশো শতাংশ অর্থাৎ পূর্ণ বেতন
৩. কমিউটেশন পুনরুদ্ধারের সময় কমানো বর্তমান নিয়ম অনুযায়ী, কোনও কর্মচারী অবসরের সময় এককালীন টাকা তুলে নিলে তাঁর পূর্ণ পেনশন পুনরুদ্ধার হতে পনেরো বছর সময় লাগে। ইউনিয়নগুলোর যুক্তি এই নিয়ম বহু পুরনো। এনসি-জেসিএম এবং এআইডিইএফ এই সময়সীমা কমিয়ে এগারো বছর, অন্য একটি সংগঠন দশ বছর এবং আইআরটিএসএ বারো বছর করার দাবি জানিয়েছে।
৪. ফিটমেন্ট ফ্যাক্টর এবং পেনশন সংশোধন পেনশন গণনার জন্য ব্যবহৃত ফিটমেন্ট ফ্যাক্টর সংশোধনের দাবি জোরালো হয়েছে। এছাড়া রিওয়া-র মতো সংগঠনগুলো দাবি তুলেছে যে, কমিশনের কার্যপরিধিতে যেন ছাব্বিশ সালের পয়লা জানুয়ারির আগে অবসর নেওয়া কর্মচারীদের পেনশন ও পারিবারিক পেনশন সংশোধনের বিষয়টি একদম স্পষ্ট রাখা হয়।
৫. মহার্ঘ ভাতা বা ডিআর একত্রীকরণ ক্রমবর্ধমান মুদ্রাস্ফীতির ধাক্কা সামলাতে ‘ডিয়ারনেস রিলিফ’ বা ডিআর-এর বর্তমান কাঠামো নতুন করে পর্যালোচনা করার কথা বলা হচ্ছে। এটিকে পেনশন সুবিধার সঙ্গে আরও কার্যকরভাবে যুক্ত করার দাবি রয়েছে।
৬. গ্র্যাচুইটি ও পারিবারিক পেনশনের পরিধি বৃদ্ধি অবসরের পর গ্র্যাচুইটির সর্বোচ্চ সীমা আরও বাড়ানোর দাবি জানানো হয়েছে। পাশাপাশি পারিবারিক পেনশনের আওতা এমনভাবে ছড়ানোর কথা বলা হয়েছে যাতে কর্মীর মৃত্যুর পর তাঁর পরিবারকে আর্থিক সংকটে না পড়তে হয়।
৭. পেনশন স্কিম বেছে নেওয়ার স্বাধীনতা সংগঠনগুলো জোরালোভাবে দাবি জানিয়েছে যে, পেনশনভোগীদের প্রয়োজন অনুযায়ী পুরনো পেনশন স্কিম বা ওপিএস, একীভূত পেনশন স্কিম বা ইউপিএস কিংবা ন্যাশনাল পেনশন সিস্টেমের মধ্যে যেকোনো একটি বেছে নেওয়ার পূর্ণ স্বাধীনতা যেন দেওয়া হয়।
২০২৫ সালের নভেম্বরে কমিশন গঠনের পর থেকে ১৮ মাসের নিয়ম মেনে অষ্টম বেতন কমিশনের চূড়ান্ত রিপোর্ট ২০২৭ সালের মে মাসের মধ্যে জমা পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এরপর কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার সবুজ সংকেত মিললেই এই নতুন সুপারিশগুলো আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যকর করা হবে।