ইছামতীর তীরে ধুঁকছে বিভূতিভূষণের স্মৃতিবিজড়িত শ্বশুরবাড়ি! জন্মবার্ষিকীতে চরম অবহেলার ছবি দেখে চোখে জল আসবে!

যার কলমের জাদুতে গ্রামবাংলা বিশ্বমঞ্চে অমর হয়ে রয়েছে, সেই কথাসাহিত্যিক বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের স্মৃতি-মাখা বসতভিটে ও প্রথম স্ত্রীর পৈতৃক বাড়ি আজ চরম অবহেলায় ধ্বংসের মুখে। ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী বসিরহাট মহকুমার পানিতর গ্রামে উদযাপিত হলো সাহিত্যিক বিভূতিভূষণের ১৩৩তম জন্মবার্ষিকী। ইছামতীর শান্ত হাওয়া আর মেঠোপথের ধুলোমাখা সেই ঐতিহাসিক গ্রামের মানুষ পরম আদরে লেখকের জন্মদিবস পালন করলেও, তাঁদের মনে রয়েছে একরাশ গভীর অভিমান ও আক্ষেপ।
ইতিহাস ঘাঁটলে জানা যায়, ১৯২০ সালের এক গোধূলিবেলায় বনগাঁ থেকে ইছামতীতে নৌকো ভাসিয়ে বরবেশে এই পানিতর গ্রামের জমিদার মুখোপাধ্যায় পরিবারের কন্যা গৌরী দেবীকে বিয়ে করতে এসেছিলেন তরুণ বিভূতিভূষণ। কিন্তু বিয়ের মাত্র এক বছরের মধ্যেই তাঁর প্রথম স্ত্রীর আকস্মিক মৃত্যু হয়। সেই থেকে এই গ্রাম এবং জমিদার বাড়িটির সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে লেখকের জীবনের এক অমূল্য অধ্যায়। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে সেই বিশাল বাড়ির জরাজীর্ণ স্তম্ভ, শ্যাওলা পড়া ছাদ আর ঝোপঝাড়ে ঢাকা প্রাঙ্গণ যেন এক বুক বেদনা নিয়ে দাঁড়িয়ে রয়েছে।
এদিন লেখকের জন্মজয়ন্তীতে পানিতর গ্রামের বাসিন্দারা একত্রিত হয়ে তাঁর আবক্ষ মূর্তিতে মালা পরিয়ে, কেক কেটে এবং গান-কবিতার মধ্য দিয়ে দিনটি স্মরণ করেন। বাড়ির আঙিনায় নীরবে দাঁড়িয়ে থাকা সেই ঐতিহাসিক বকুল গাছটি আজও সাক্ষী রয়েছে পুরনো দিনের। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে সরকারি স্তরে নামমাত্র হেরিটেজ ঘোষণার ফলক ছাড়া বাস্তবে কোনো বড় সংরক্ষণ বা সংস্কারের কাজ না হওয়ায় ক্ষুব্ধ স্থানীয় বাসিন্দারা।
গ্রামবাসীদের জোরালো দাবি, অবিলম্বে রাজ্য সরকার এই ঐতিহাসিক ভিটেটিকে রক্ষা করতে এগিয়ে আসুক এবং এটিকে কেন্দ্র করে একটি পূর্ণাঙ্গ সংগ্রহশালা ও সাহিত্য-পর্যটন কেন্দ্র গড়ে তুলুক। ইছামতীর তীরবর্তী এই অঞ্চলে পর্যটন কেন্দ্র গড়ে উঠলে যেমন একদিকে বাংলার সাহিত্যচর্চা নতুন মাত্রা পাবে, তেমনই সীমান্তবর্তী এই অবহেলিত জনপদে বহু মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে। বকুল গাছের ছায়ায় লুকিয়ে থাকা বিভূতিভূষণের এই অমূল্য স্মৃতি কি শেষ পর্যন্ত সরকারি আলোর দেখা পাবে, নাকি কালের গর্ভে হারিয়ে যাবে—এখন সেটাই সবথেকে বড় প্রশ্ন।