ব্রহ্মার নাক থেকে উৎপত্তি! কেন নিজের নাকের ওপর পুরো পৃথিবীকে তুলে নিয়েছিলেন ভগবান বরাহ?

হিন্দুধর্মে ভগবান বিষ্ণুর দশটি অবতারের বিশেষ ধর্মীয় তাৎপর্য রয়েছে। এর মধ্যে অন্যতম হলেন বরাহ অবতার, যেখানে তিনি পৃথিবীকে বিপদ ও বিনাশ থেকে রক্ষা করার জন্য বন্য শূকরের রূপ ধারণ করেছিলেন। পঞ্জিকা অনুসারে, প্রতি বছর ভাদ্রপদ মাসের শুক্লপক্ষের তৃতীয় তিথিতে পালিত হয় বরাহ জয়ন্তী। চলতি বছর ১৩ সেপ্টেম্বর রবিবার এই পবিত্র তিথি পড়েছে। ধর্মীয় বিশ্বাস অনুসারে, এই দিনে ভগবান বিষ্ণুর বরাহ রূপের পূজা ও উপবাস করলে সমস্ত পাপমোচন হয় এবং জীবনের দুঃখ-কষ্ট থেকে মুক্তি মেলে। পাশাপাশি, যাঁরা নতুন জমি বা সম্পত্তি লাভ করতে চান, তাঁদের জন্যও এই বিশেষ দিনের পূজা অত্যন্ত ফলদায়ক বলে মনে করা হয়।

পৌরাণিক কাহিনী অনুযায়ী, সত্যযুগে হিরণ্যক্ষ নামক এক প্রবল পরাক্রমশালী অসুর তার শক্তির দম্ভে পৃথিবীকে মহাসমুদ্রের গভীরে নিমজ্জিত করে পাতালের দিকে টেনে নিয়ে গিয়েছিল। এর ফলে বিশ্বব্রহ্মাণ্ডের ভারসাম্য সম্পূর্ণরূপে নষ্ট হতে শুরু করে এবং সমস্ত জীবকুল চরম বিপদের মুখে পড়ে। যখন পৃথিবীকে রক্ষা করার আর কোনো পথ খোলা ছিল না, তখন ব্রহ্মা ও দেবকুলকে রক্ষা করতে ভগবান বিষ্ণু আবির্ভূত হন। বিশ্বাস করা হয়, ভগবান বিষ্ণু তখন ব্রহ্মার নাক থেকে বরাহ রূপে আত্মপ্রকাশ করেন এবং মুহূর্তের মধ্যে তাঁর শরীর বিশাল আকার ধারণ করে।

জলের গভীরে ডুব দিয়ে নিখোঁজ পৃথিবীকে খুঁজে বের করে আনার জন্য এই রূপটিই ছিল সবচেয়ে উপযুক্ত। সমুদ্রের গভীরে প্রবেশ করার পরই মহাশক্তিশালী অসুর হিরণ্যক্ষের মুখোমুখি হন তিনি। দুই পক্ষের মধ্যে এক ভয়ঙ্কর যুদ্ধ শুরু হয়। সেই যুদ্ধে অসুর হিরণ্যক্ষকে বধ করার পর, ভগবান বরাহ তাঁর শক্তিশালী দাঁত ও নাকের সাহায্যে সমুদ্রের তলদেশ থেকে ভূদেবীকে নিরাপদে তুলে আনেন। এই কারণেই বরাহ অবতারে ভগবান বিষ্ণুকে তাঁর শুঁড় বা নাকের অগ্রভাগে পৃথিবীকে বহন করতে দেখা যায়।

বরাহ জয়ন্তীর দিন পূজার জন্য মধ্যাহ্নকালকে সবচেয়ে শুভ বলে মনে করা হয়। ১৩ সেপ্টেম্বর পূজার শুভ সময় শুরু হবে দুপুর ১:২৩ মিনিটে এবং চলবে বিকেল ৩:৫১ মিনিট পর্যন্ত। এই আরাধনায় পরিষ্কার লাল বা হলুদ কাপড়ের বেদীতে ভগবান বিষ্ণুর মূর্তি স্থাপন করে তুলসী পাতা, লাল ফুল, পঞ্চামৃত ও মিষ্টি নিবেদন করতে হয়। পাশাপাশি ‘ওম নমো ভগবতে বাসুদেবায়’ মন্ত্র জপ করে ভক্তির সঙ্গে আরতি সম্পন্ন করার বিধান রয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *