“শত্রুদের রাডারে ধরাই পড়বে না!”-ভারতের বায়ুসেনায় কি যুক্ত হতে চলেছে Su-57E?

যুদ্ধবিমানের বয়স বাড়ছে, কমছে স্কোয়াড্রনের সংখ্যা। আর ঠিক এই সংকটজনক মুহূর্তে প্রতিবেশী চীন ও পাকিস্তানের স্টেলথ ফাইটারের দাপট মোকাবিলায় নতুন করে সামনে চলে এসেছে রাশিয়ার পঞ্চম প্রজন্মের যুদ্ধবিমান Su-57E সম্প্রতি রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ও প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে এই যুদ্ধবিমান বিক্রির প্রস্তাব নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। শুধু সরাসরি বিমান বিক্রি নয়, বরং প্রযুক্তি হস্তান্তর এবং ভারতেই যৌথ উৎপাদনের এক লোভনীয় প্রস্তাব দিয়েছে মস্কো।

ভারতীয় বায়ুসেনার অনুমোদিত যুদ্ধবিমান স্কোয়াড্রনের সংখ্যা ৪২টি হলেও বাস্তবে সেই সংখ্যা অনেকটাই কম। এর ওপর পুরনো বিমানগুলি একে একে অবসর নেওয়ায় চাপ আরও বাড়ছে। অন্যদিকে, বেইজিং তাদের উন্নত J-20 স্টেলথ ফাইটারের বহর দ্রুত বাড়িয়ে চলেছে এবং ইসলামাবাদও সেই পথে হাঁটার চেষ্টা করছে। ভারতের নিজস্ব পঞ্চম প্রজন্মের যুদ্ধবিমান বা AMCA তৈরির কাজ চললেও, তা বায়ুসেনার হাতে এসে পৌঁছাতে এখনও বেশ কিছুটা সময় লাগবে। এই অন্তর্বর্তীকালীন ফাঁক পূরণ করতেই রাশিয়ার Su-57E বিমানটিকে সেতু হিসেবে ব্যবহারের কথা ভাবছেন প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞরা।

রাশিয়ার দাবি অনুযায়ী, এই স্টেলথ ফাইটার রাডারে ধরা না পড়ে অত্যন্ত নিখুঁতভাবে শত্রুর ওপর হামলা চালাতে সক্ষম। এতে রয়েছে আধুনিক সেন্সর, থ্রাস্ট ভেক্টরিং প্রযুক্তি এবং দ্রুত দিক পরিবর্তনের ক্ষমতা। তবে সবচেয়ে বড় আকর্ষণ হলো, রাশিয়া এতে পূর্ণাঙ্গ প্রযুক্তি হস্তান্তর ও মেক ইন ইন্ডিয়ার আদলে ভারতেই উৎপাদনের ইচ্ছা প্রকাশ করেছে। এই অভিজ্ঞতা ভারতের নিজস্ব দেশীয় AMCA প্রকল্পেও কাজে লাগতে পারে।

যদিও এই চুক্তির কিছু ঝুঁকিও রয়েছে। এর যেমন বিপুল আর্থিক খরচ যুক্ত রয়েছে, তেমনই পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার জেরে ভবিষ্যতে যন্ত্রাংশ পাওয়া বা রক্ষণাবেক্ষণের সমস্যা দেখা দিতে পারে। তাই সব দিক বিবেচনা করে শেষ পর্যন্ত নয়াদিল্লি এই রুশ অফারে সায় দেয় কি না, সেটাই এখন দেখার বিষয়।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *