খুনের হুমকির মাঝেই প্রাক্তন কোচকে নিয়ে বিস্ফোরক দাবি! লাল-হলুদ শিবিরে চরম কোন্দল তুঙ্গে।

ইস্টবেঙ্গল ও কোচ অস্কার ব্রুজোর মধ্যকার সংঘাত এখন চরমে। সোশ্যাল মিডিয়ার গণ্ডি পেরিয়ে এই দ্বন্দ্ব এবার গড়িয়েছে প্রাণনাশের হুমকি এবং আইনি পদক্ষেপ পর্যন্ত। শুক্রবার গভীর রাতে লাল-হলুদ সমর্থকদের উদ্দেশে দুই পাতার লম্বা বিবৃতি পোস্ট করে আইএসএল জয়ী কোচ অস্কার ব্রুজো দাবি করেন যে, তাঁকে সরাসরি খুনের হুমকি দেওয়া হয়েছে। এমনকি শনিবার দুপুরে সেই হুমকির মেসেজের স্ক্রিনশট পোস্ট করে কলকাতা পুলিশ এবং স্পেনের দূতাবাসকে ট্যাগ করেন তিনি। এর পরেই আসরে নামে ইস্টবেঙ্গল ক্লাব কর্তারা।
প্রাক্তন কোচের একের পর এক গুরুতর অভিযোগের বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন ইস্টবেঙ্গলের ফুটবল সচিব সৈকত গাঙ্গুলি। নিজের সোশ্যাল হ্যান্ডেলে একটি দীর্ঘ বিবৃতি পোস্ট করে তিনি অস্কারকে তীব্র ভাষায় আক্রমণ করেছেন। সৈকত গাঙ্গুলি লিখেছেন, “ফুটবলে একটা কথা প্রচলিত আছে—ট্রফি জিতলে আমি, আর সবকিছু নিজের মতো না চললে ওরা। ক্লাব ছাড়ার পর একজন একাধিক ষড়যন্ত্র আবিষ্কার করতেই পারে—রহস্যময় মাস্টার, গোপন এজেন্ডা, ড্রেসিংরুমের প্লট কিংবা অদৃশ্য হাত। এত কিছুর পরেও দলকে কোচিং করানোর সময় কীভাবে বের করে নিলেন, ভেবেই অবাক হচ্ছি!”
সঙ্গে তিনি আরও যোগ করেন, অভিযোগ করা খুবই সহজ কিন্তু প্রমাণ করা কঠিন। এক শতাব্দীরও বেশি সময় ধরে চলা ইস্টবেঙ্গল ক্লাবের ঐতিহ্য ও প্রতিষ্ঠানের মান কোনো একক ব্যক্তি, সে যতই বড় কোচ বা খেলোয়াড় হোন না কেন, তার চেয়ে অনেক উর্ধ্বে।
উল্লেখ্য, গত দু’দিন ধরে অস্কার ব্রুজো এবং ইস্টবেঙ্গল শীর্ষকর্তা দেবব্রত সরকার (নীতু সরকার)-কে কেন্দ্র করে চলা এই তরজা এখন বাংলার ফুটবল মহলে সবচেয়ে বড় আলোচনার বিষয়। একের পর এক চাঞ্চল্যকর অভিযোগ ও পাল্টা জবাবে ময়দানের রাজনীতি যেন ফুটছে।