“ক্লাস টেনে পড়ার সময়ই ড্রপআউট হয়েছিলাম!” নিজের শৈশবের সেই কঠিন সিদ্ধান্ত নিয়ে বিস্ফোরক বাইচুং ভুটিয়া!

সিকিমের একটি ছোট্ট গ্রাম টিনকিটাম থেকে উঠে এসে বিশ্বমঞ্চে ভারতীয় ফুটবলের পতাকা উড়িয়েছিলেন তিনি। ফুটবলপ্রেমীদের কাছে তিনি চিরকালের ‘পাহাড়ি বিছে’। বলছি কিংবদন্তি ফুটবলার বাইচুং ভুটিয়ার কথা। সম্প্রতি ‘রাইজিং ভারত সামিট’-এর ইস্ট এডিশনের মঞ্চে এসে নিজের শৈশব ও কৈশোরের সংগ্রামের এক অজানা অধ্যায় তুলে ধরলেন তিনি। সেই সঙ্গে স্পষ্ট জানালেন, নিজের জীবনে যা করতে বাধ্য হয়েছিলেন, ছেলের ক্ষেত্রে সেই ভুল আর করতে চান না তিনি।
অনুষ্ঠানের মঞ্চে পুরনো দিনের স্মৃতিচারণ করে বাইচুং বলেন, “আমি ক্লাস টেনে পড়তে পড়তেই জাতীয় দলে খেলার সুযোগ পাওয়ার জন্য একবার পড়াশোনায় ড্রপআউট হয়েছিলাম।” ১৬ বছর বয়সে পড়াশোনার একটি বছর নষ্ট করে এক বছর বাদে ক্লাস টেনের ফাইনাল পরীক্ষা দিতে হয়েছিল তাঁকে। তবে আজ একজন বাবা হিসেবে তিনি নিজের ছেলের ক্ষেত্রে সেই পরিস্থিতি দেখতে চান না। বর্তমানে তাঁর ছেলের বয়সও ১৬ বছর। বাইচুং চান, ছেলে যেমন ফুটবল শিখছে, ঠিক তেমনই যেন তার পড়াশোনাটাও সমানভাবে চালিয়ে যায়। খেলাধুলার জন্য ছেলের অ্যাকাডেমিক বছর নষ্ট হোক, তা একজন বাবা হিসেবে তিনি একেবারেই চান না।
শুধু নিজের ছেলেই নয়, দেশজুড়ে তাঁর বিভিন্ন কোচিং সেন্টারে প্রশিক্ষণ নেওয়া খুদে ফুটবলারদের ভবিষ্যৎ নিয়েও সমানভাবে সচেতন ভারতীয় ফুটবলের এই আইকন। বাইচুং জানান, বর্তমানে তাঁর সারা দেশের কোচিং সেন্টারে প্রায় ১৮০ জন কোচ কাজ করছেন। সেখানে শুধুমাত্র ফুটবল খেলা বা ট্যাকটিক্স-টেকনিক শেখানোই নয়, বরং বাচ্চাদের সার্বিক গ্রোথ বা মানসিক ও শারীরিক বিকাশের দিকটিতেও বিশেষ নজর দেওয়া হয়।
তবে দেশের ফুটবল পরিকাঠামো নিয়ে কথা বলতে গিয়ে তিনি জানান, বর্তমানে ভারতে খেলোয়াড়দের জন্য অনেক সুযোগ ও বিকল্প তৈরি হয়েছে ঠিকই, কিন্তু যে সমস্ত জায়গায় সিস্টেম বা স্ট্রাকচারের ঘাটতি রয়েছে, সেগুলিতে আরও নিবিড়ভাবে কাজ করা প্রয়োজন। পাশাপাশি, উত্তর পূর্ব ভারতের যুবসমাজের মধ্যে ফুটবলের প্রতি অপরিসীম ক্রেজের কথা তুলে ধরে বাইচুং দাবি করেন, ডুরান্ড কাপের ম্যাচগুলির সময় উত্তর পূর্বের স্টেডিয়ামগুলিতে দর্শকদের যে উপচে পড়া ভিড় ও হাউসফুল গ্যালারি দেখা যায়, তা সত্যিই অতুলনীয়।