মাসে মাত্র ১০ হাজার ৭৫০ টাকা জমালেই হাতে ১ কোটি! পিএফ-এর এই জাদুকরী ফর্মুলা জানেন কি?

মাসোহারা পাওয়ার পর চাকরিজীবীদের বেতন থেকে যে প্রভিডেন্ট ফান্ড বা পিএফ (PF)-এর টাকা কাটা হয়, তা প্রথমে খুব একটা ভারী মনে হয় না। কিন্তু দীর্ঘ সময় ধরে তিল তিল করে জমানো এই টাকা এবং তার উপর চক্রবৃদ্ধি হারে মেলা সুদ মিলে অবসরের সময় এক বিশাল অঙ্কের তহবিল তৈরি করতে পারে। একটি সাধারণ হিসেব বলছে, কর্মী ও সংস্থা মিলিয়ে যদি প্রতি মাসে ১০,৭৫০ টাকা করে জমা হয় এবং বার্ষিক ৮.২৫ শতাংশ হারে সুদ পাওয়া যায়, তবে মাত্র ২৪ থেকে ২৫ বছরের মধ্যেই অ্যাকাউন্টে ১ কোটি টাকার মালিক হওয়া সম্ভব! এখানে শুধু মাসিক কিস্তিই নয়, চক্রবৃদ্ধি সুদের জাদুটাই আসল খেল দেখায়।
পিএফের টাকা কীভাবে বাড়ে?
সাধারণ নিয়ম অনুযায়ী, একজন কর্মীর মূল বেতনের ১২ শতাংশ টাকা ইপিএফ (EPF)-এ জমা হয়। এর সঙ্গে সংস্থাও সমপরিমাণ অর্থ প্রদান করে। তবে সংস্থার দেওয়া পুরো টাকাটা সরাসরি পিএফ অ্যাকাউন্টে যায় না, এর একটি অংশ এমপ্লয়িজ পেনশন স্কিম (EPS)-এ চলে যায়। তাই শুধু বেতনের স্লিপে পিএফ কাটার অঙ্ক দেখে ছোট ভাবলে ভুল করবেন। বছরের পর বছর ধরে টাকা জমার ফলে পুরনো জমার উপরিউরি সুদ পাওয়া যায়। এই সুদ যখন আসলের সঙ্গে যুক্ত হতে থাকে, তখন সময়ের সঙ্গে সঙ্গে জমার পরিমাণ দ্রুত বাড়তে থাকে। একেই চক্রবৃদ্ধি সুদের কামাল বলা হয়।
মাঝপথে চাকরি ছাড়লে বা বিরতি নিলে কী হয়?
এখানেই লুকিয়ে রয়েছে এমন এক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য, যা অনেকেই জানেন না। ধরুন, কোনও ব্যক্তি একটানা ২৫ বছর ইপিএফ-এ টাকা জমিয়ে ১ কোটি টাকার মালিক হওয়ার পথে আছেন। কিন্তু তিনি যদি কেরিয়ারের মাঝে মাত্র ৩ বছরের বিরতি নেন, তবে সেই সময়ে নতুন করে আর কোনও অ্যাকাউন্ট জমা হবে না। ফলে ২৫ বছরের বদলে মাত্র ২২ বছর টাকা জমলে, অবসরের সময় তাঁর মোট তহবিলের পরিমাণ কমে দাঁড়াতে পারে প্রায় ৭৬.৬ লক্ষ টাকায়!
অর্থাৎ, কেবল ৩ বছর কাজ না করার কারণে সরাসরি প্রায় ২৪.৯ লক্ষ টাকার বড়সড় ফারাক তৈরি হয়ে যায়। এর কারণ শুধু ওই ৩ বছরে টাকা জমা না হওয়া নয়; বরং ওই টাকাটা আগামী বছরগুলিতে যে সুদ তৈরি করতে পারত, সেই সুযোগও চিরতরে হাতছাড়া হয়ে যায়।
আর একটু বেশি জমালেই কোটিপতি হওয়ার রাস্তা সহজ!
ইপিএফ-এর নিয়মিত জমার পাশাপাশি যোগ্য কর্মীরা ভলান্টারি প্রভিডেন্ট ফান্ড বা ভিএফপি (VPF)-এর মাধ্যমে অতিরিক্ত টাকাও জমা করতে পারেন। উদাহরণস্বরূপ, প্রতি মাসে ১০,৭৫০ টাকা ইপিএফ জমার সঙ্গে যদি অতিরিক্ত ৬,০০০ টাকা ভিপিএফ-এ রাখা হয়, তবে মোট মাসিক জমার পরিমাণ দাঁড়াবে ১৬,৭৫০ টাকা। এই নিয়মে যদি টানা ২৫ বছর টাকা জমে এবং বার্ষিক ৮.২৫% সুদ পাওয়া যায়, তবে মোট সঞ্চয় পৌঁছতে পারে প্রায় ১.৫৮ কোটি টাকায়! তবে মনে রাখা ভালো, ভিপিএফ-এর ক্ষেত্রে সংস্থা সমপরিমাণ টাকা দিতে বাধ্য নয়। তাই অতিরিক্ত টাকা জমার আগে নিজের আর্থিক সামর্থ্য ও খরচের দিকটি অবশ্যই বিচার করে নেওয়া উচিত।
ইপিএফ-এর আসল শক্তির জায়গা কোথায়?
ইপিএফ-এর সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো এর দীর্ঘমেয়াদী এবং নিরবচ্ছিন্ন সঞ্চয়। প্রতি মাসে জমার অঙ্ক সামান্য মনে হলেও, ২০ থেকে ২৫ বছর ধরে তা চলতে থাকলে সুদের জাদুতে তা বহুগুণ হয়ে যায়। উল্টোদিকে, মাঝপথে চাকরি ছাড়লে বা টাকা তুলে নিলে দীর্ঘমেয়াদী বৃদ্ধিতে বড় ধাক্কা লাগে। তাই শুধু পিএফ কাটছে জেনেই নিশ্চিন্ত না থেকে, অ্যাকাউন্টে ঠিক কত টাকা জমছে, সংস্থার অবদান কত এবং অবসরের লক্ষ্যের জন্য এই সঞ্চয় যথেষ্ট কি না, তা মাঝেমধ্যেই খতিয়ে দেখা দরকার।
(বিশেষ দ্রষ্টব্য: উপরে উল্লেখিত ১ কোটি, ৭৬.৬ লক্ষ বা ১.৫৮ কোটি টাকার হিসেবগুলি বার্ষিক ৮.২৫% সুদ এবং নির্দিষ্ট সময় ধরে নিরবচ্ছিন্ন জমার অনুমানের উপর ভিত্তি করে করা হয়েছে। প্রকৃত সুদের হার ও নিয়মের ওপর নির্ভর করে চূড়ান্ত অর্থের পরিমাণ বদলাতে পারে।)