মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরে এল ‘মাধুরী’! এক বছর পর নতুন জীবন পেয়ে কোথায় ফিরছে এই হাতি?

দীর্ঘ এক বছরের চরম লড়াই এবং অত্যন্ত জটিল চিকিৎসা শেষে অবশেষে সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে মহারাষ্ট্রের কোলাপুরে নিজের চেনা ঠিকানায় ফিরে আসছে ভালোবাসার হাতি ‘মাধুরী’। জামনগরের বিখ্যাত বন্যপ্রাণী পুনর্বাসন ও সংরক্ষণ কেন্দ্র ‘বন্তারা’-র তত্ত্বাবধানে তার এই রূপান্তর ও সুস্থ হয়ে ওঠার ঘটনাটি এখন নেটদুনিয়ায় চর্চার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে।

কীভাবে বন্তারা-য় এসেছিল মাধুরী? দীর্ঘদিন ধরে কঠোর কলাপাড়ার মাটিতে দাঁড়িয়ে থাকা, পায়ে গভীর ক্ষত (ক্রনিক ফুট রট) এবং অ্যাডভান্সড আঠারোটি বা তার বেশি গুরুতর জয়েন্টের সমস্যায় ভুগছিল মাধুরী। এমনকি বছরের পর বছর ভারী শিকল দিয়ে বেঁধে রাখার ফলে তার স্বাভাবিক গতিশীলতা প্রায় থমকে গিয়েছিল। তার ওপর প্রচণ্ড গরম পিচ রাস্তায় জাঁকিয়ে উৎসব ও মিছিলে হাঁটার বাধ্যবাধকতার কারণে তার শারীরিক অবস্থা অত্যন্ত শোচনীয় হয়ে পড়েছিল। এই খবর সামনে আসার পরেই তাকে উদ্ধার করে গুজরাটের ‘বন্তারা’-য় নিয়ে আসা হয়।

চিকিৎসা ও মানসিক পুনর্গঠন: বন্তারা-য় আসার পর অনন্ত আম্বানির দিকনির্দেশনায় এক বিশেষ বহু-বিষয়ক বিশেষজ্ঞ দল মাধুরীর চিকিৎসার দায়িত্ব নেয়। পশু চিকিৎসক, পুষ্টিবিদ এবং আচরণ বিশেষজ্ঞদের নিরলস পরিশ্রমে তার ওপর হাইড্রোথেরাপি, লেজার থেরাপি এবং বিশেষ ফুট কেয়ারের মতো অত্যাধুনিক চিকিৎসা চালানো হয়। শুধু শারীরিক চিকিৎসাই নয়, অন্যান্য হাতির সংস্পর্শে এনে তার মানসিক স্থায়িত্ব ও সামাজিক নিরাপত্তার পরিবেশও ফিরিয়ে দেওয়া হয় এখানে।

কোলাপুরে রাজকীয় প্রত্যাবর্তন: সুপ্রিম কোর্টের নিযুক্ত উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন কমিটি (HPC)-র পুঙ্খানুপুঙ্খ স্বাস্থ্য পরীক্ষার পর মাধুরীকে ভ্রমণের জন্য সম্পূর্ণ সুস্থ ও ফিট ঘোষণা করা হয়েছে। বর্তমানে একটি বিশেষভাবে সুসজ্জিত হাতি অ্যাম্বুলেন্সে করে বন্তারা থেকে কোলাপুরের নন্দী মঠের উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছে সে। যাত্রাপথে তার সুরক্ষার জন্য চিকিৎসকদের একটি বিশেষ দলও সঙ্গে রয়েছে। মাধুরীর এই সুস্থ হয়ে বাড়ি ফেরা নিছক কোনো যাতায়াত নয়, বরং এক অবলা জীবের নতুন জীবন ফিরে পাওয়ার এক অনন্য ইতিহাস হয়ে রইল।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *