আমেরিকাকে সরাসরি হুঙ্কার! ব্রিক্সের মঞ্চ থেকে বাইডেন-ট্রাম্প প্রশাসনকে একহাত নিলেন ইরানের প্রেসিডেন্ট

দিল্লির ‘ভারত মণ্ডপম’-এ অনুষ্ঠিত ব্রিক্স বিজনেস ফোরামের মঞ্চ থেকে আমেরিকার বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানালেন ইরানের রাষ্ট্রপতি মাসুদ পেজেশ্‌কিয়ান। বৈশ্বিক বাণিজ্যে মার্কিন অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা এবং রাজনৈতিক চাপের তীব্র সমালোচনা করে তিনি বলেন যে, বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতার সময়ে বাণিজ্যিক সাপ্লাই চেনে বাধা সৃষ্টি করতে এবং নিজেদের রাজনৈতিক স্বার্থ চরিতার্থ করতে অর্থনৈতিক অস্ত্র ও সামরিক শক্তির যথেচ্ছ ব্যবহার করছে আমেরিকা।

ব্রিক্সকে শক্তিশালী করার আহ্বান: ভাষণ দেওয়ার সময় ইরানের প্রেসিডেন্ট স্পষ্ট ভাষায় জানান যে, ব্রিক্সকে বিশ্বের একটি অন্যতম প্রধান মহাশক্তি হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। ভৌগোলিক অবস্থান এবং বিশাল জ্বালানি সম্পদের সুবাদে ইরান আন্তর্জাতিক যোগাযোগের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হয়ে উঠতে পারে বলে মন্তব্য করেন তিনি। ব্রিক্স বিজনেস কাউন্সিলকে কেবল আলোচনার মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে অর্থনৈতিক সহযোগিতার একটি শক্তিশালী ইঞ্জিন হিসেবে কাজ করার আহ্বান জানান পেজেশ্‌কিয়ান। এছাড়া সহযোগিতাকে আরও মজবুত করতে একটি ‘ব্রিক্স জয়েন্ট রিউয়োরেন্স কোম্পানি’ গঠনের প্রস্তাবও দেন তিনি।

ডলারের ওপর নির্ভরতা কমানোর ডাক: আমেরিকা ও তার সহযোগী দেশগুলির আর্থিক একাধিপত্য ভাঙতে নিজস্ব মুদ্রার ব্যবহারের ওপর বিশেষ জোর দিয়েছেন ইরানের রাষ্ট্রপতি। তাঁর মতে, পারস্পরিক বিনিয়োগ বাড়াতে এবং জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে সদস্য দেশগুলির নিজেদের স্থানীয় মুদ্রাতেই ক্রেডিট লাইন বা লেনদেন শুরু করা উচিত। এই প্রক্রিয়ায় ইরান সর্বতোভাবে সহযোগিতা করতে প্রস্তুত বলে জানিয়েছেন তিনি।

আমেরিকা ও ইজরায়েলের সমালোচনা: ভাষণের শেষভাগে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ইজরায়েলের সামরিক আগ্রাসনের তীব্র নিন্দা করেন পেজেশ্‌কিয়ান। তিনি সতর্ক করে বলেন যে, যখনই বাণিজ্য, শক্তি বা আর্থিক ব্যবস্থাকে সামরিক বা রাজনৈতিক চাপের মুখে ফেলা হয়, তখন তার নেতিবাচক প্রভাব গোটা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়ে। বৈশ্বিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে হলে বাণিজ্যের বহুমুখীকরণ করা এখন সময়ের সবচেয়ে বড় দাবি।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *