মাথার ওপর ৩০ কেজির বোঝা, দিনে ১৮ কিলোমিটার পথ চলা! সন্তানদের মুখে হাসি ফোটাতে লডার্কের ‘সুপরমম’-এর লড়াই দেখে শিউরে উঠবে মন

সমাজমাধ্যমে প্রায় প্রতিদিনই নানান ধরনের ভিডিও ভাইরাল হতে দেখা যায়। তবে সম্প্রতি লডাখ থেকে এমন এক লড়াকু মায়ের ভিডিও প্রকাশ্যে এসেছে, যা দেখে চোখে জল চলে এসেছে আট থেকে আশির। এথলেট সার্থক মালানির শেয়ার করা এই ভিডিও এখন ইন্টারনেট দুনিয়ায় ঝড় তুলেছে।

ঠিক কী দেখা গিয়েছে ওই ভিডিওতে? লডাখের জাঁসকার অঞ্চলে ট্রেকিং করার সময় সার্থক মালানির নজর পড়ে এক অদ্ভুত দৃশ্যের ওপর। পাহাড়ের অত্যন্ত খাড়া এবং দুর্গম রাস্তায় এক নারী নিজের মাথা ও কাঁধে কাঠের বিশাল ভারী শিট বা প্লাইউড নিয়ে হেঁটে চলেছেন। প্রথমে মাস্ক পরা থাকায় তাঁকে পুরুষ বলেই মনে হয়েছিল সার্থকের। পরে কাছে গিয়ে কথা বলার পর জানা যায়, তাঁর নাম সরিতা এবং তিনি দুই সন্তানের জননী।

পরিবারের মুখে অন্ন তুলে দিতে এবং সন্তানদের পড়াশোনার খরচ জোগাতে তিনি এই কঠিন পথ বেছে নিয়েছেন। প্রতিদিন জাঁসকারের ফুকতাল মঠ পর্যন্ত এই ভারী প্লাইউড পৌঁছে দেওয়ার কাজ করেন তিনি।

কঠিন পরিশ্রমের মর্মান্তিক চিত্র: একটি কাঠের প্লাইউডের ওজন প্রায় ৩০ কেজি পর্যন্ত হয়ে থাকে। এত ভারী ওজন ঘাড়ে নিয়ে প্রতিদিন প্রায় ১৮ কিলোমিটার পথ হেঁটে পাড়ি দেন সরিতা। সারাদিনে এভাবে ৫ থেকে ৬ বার এই ভারী বোঝা নিয়ে পাহাড়ি পথ চড়তে হয় তাঁকে। এই সমস্ত শারীরিক কষ্টের বিনিময়ে তাঁর পারিশ্রমিক মেলে মাত্র ৭০০ টাকা।

সরিতার এই আত্মত্যাগ এবং অদম্য জেদ দেখে অভিভূত হয়ে পড়েন অ্যাথলেট সার্থক মালানি। তিনি বলেন, শহরের বুকে সামান্য সমস্যায় যারা ভেঙে পড়েন, তাঁদের জন্য সরিতার এই জীবনযুদ্ধ এক বিরাট শিক্ষা। ভিডিওটি প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই নেটিজেনরা এই লড়াকু মায়ের সাহসিকতা এবং মাতৃত্বের শক্তিকে কুর্নিশ জানিয়েছেন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *