ডেঙ্গু-ম্যালেরিয়ার প্রকোপে কাঁপবে দেশ? বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার এই সতর্কবার্তা ঘুম উড়িয়েছে চিকিৎসকদের!

বিশ্বজুড়ে এল নিনো (El Niño) জলবায়ু পরিস্থিতির প্রভাব দিন দিন আরও শক্তিশালী হওয়ায় একাধিক গুরুতর স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হতে পারে বলে সতর্কবার্তা দিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO)। সংস্থাটির সাম্প্রতিক ‘গ্লোবাল পাবলিক হেলথ সিচুয়েশন অ্যানালিসিস—এল নিনো ২০২৬’ শীর্ষক রিপোর্টে জানানো হয়েছে যে, ভারতও এই সম্ভাব্য ঝুঁকির বাইরে নয়। মূলত তাপমাত্রা ও বৃষ্টিপাতের ধরনে বড় ধরনের পরিবর্তন, তীব্র গরম, খরা, বন্যা এবং এর হাত ধরে সংক্রামক রোগের বিস্তার বাড়াতে পারে এই প্রাকৃতিক পরিবর্তন। ভারতের ভূবিজ্ঞান মন্ত্রকও চলতি বছরে এল নিনোর প্রভাব আরও শক্তিশালী হয়ে পরবর্তীতে চরম পর্যায়ে পৌঁছানোর আশঙ্কা প্রকাশ করেছে।

এল নিনো মূলত মধ্য ও পূর্ব নিরক্ষীয় প্রশান্ত মহাসাগরের জলপৃষ্ঠের তাপমাত্রা অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাওয়ার একটি প্রক্রিয়া, যার প্রত্যক্ষ প্রভাব পড়ে হাজার হাজার কিলোমিটার দূরের আবহাওয়ায়। ভারতের ক্ষেত্রে এর সরাসরি যোগ রয়েছে বর্ষার বৃষ্টিপাতের ধরনে পরিবর্তন এবং তুলনামূলক উষ্ণ আবহাওয়া তৈরির নেপথ্যে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, তাপমাত্রা, আর্দ্রতা এবং অনিয়মিত বৃষ্টিপাতের এই তারতম্য মশার বংশবৃদ্ধি এবং মারাত্মক সব রোগ ছড়ানোর অনুকূল পরিবেশ তৈরি করে। বিশেষ করে ডেঙ্গু ও ম্যালেরিয়া বাহক মশার প্রজনন চক্র দ্রুত হওয়া এবং জমে থাকা জলে তাদের সংখ্যা বেড়ে যাওয়ার ঝুঁকি বহুগুণ বেড়ে যায়। তবে চিকিৎসকরা মনে করিয়ে দিচ্ছেন যে, কেবল তাপমাত্রা বৃদ্ধিই নয়, বরং পরিচ্ছন্নতা, জল সংরক্ষণের অভ্যাস এবং মশা নিয়ন্ত্রণের সঠিক পদক্ষেপের ওপরও মহামারীর বিস্তার অনেকাংশেই নির্ভর করে। আগাম প্রস্তুতি নিতে সংশ্লিষ্ট দেশগুলির স্বাস্থ্যব্যবস্থাকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছে আন্তর্জাতিক মহল।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *