৩ মাসের বেশি একই টুথব্রাশ ব্যবহার করছেন? অজান্তেই মুখে কোটি কোটি ব্যাকটেরিয়া ঢুকিয়ে সর্বনাশ করছেন না তো!

ঘুম থেকে উঠে ঝকঝকে হাসির জন্য দাঁত মাজা আমাদের দৈনন্দিন জীবনের অন্যতম অঙ্গ। কিন্তু আপনি যে টুথব্রাশটি দিয়ে রোজ দাঁত মাজছেন, তা কি আদৌ সঠিক? আর কত দিন ধরে সেটি ব্যবহার করছেন? ডেন্টিস্টদের মতে, ৯০ শতাংশ মানুষই এই দুটি ক্ষেত্রে মারাত্মক ভুল করে থাকেন। পুরনো বা ভুল ব্রাশ ব্যবহারের ফলে দাঁতের ক্যাভিটি, মাড়ির সংক্রমণ এবং মুখের দুর্গন্ধের মতো সমস্যা অনায়াসেই বাসা বাঁধতে পারে।

কখন এবং কেন টুথব্রাশ বদলানো জরুরি? আমেরিকান ডেন্টাল অ্যাসোসিয়েশন (ADA)-র মতে, প্রতি ৯০ দিন বা ৩ মাস অন্তর টুথব্রাশ বদলে ফেলা বাধ্যতামূলক। কারণ, টানা ৩ মাস ব্যবহারের পর ব্রাশের ব্রিসল প্রায় ৪০ শতাংশ কার্যকারিতা হারিয়ে ফেলে। ফলে দাঁতের ফাঁক থেকে খাবার ও ব্যাকটেরিয়া পরিষ্কার হয় না, উল্টে ব্রাশের গোড়ায় লক্ষ লক্ষ ক্ষতিকর জীবাণু জমা হয়। এছাড়া জ্বর, গলা ব্যথা বা কোভিডের মতো সংক্রমণের পর অবশ্যই ব্রাশ বদলে ফেলা উচিত। বাচ্চাদের ব্রিসল দ্রুত নষ্ট হয় বলে তাদের ক্ষেত্রে প্রতি ২ মাস অন্তর ব্রাশ পরিবর্তন করা দরকার।

ভুল টুথব্রাশ চেনার সহজ উপায় ও সতর্কতা:

  • হার্ড ব্রিসল বর্জন করুন: অনেকে মনে করেন শক্ত ব্রাশে দাঁত বেশি পরিষ্কার হয়। এটি সম্পূর্ণ ভুল ধারণা। হার্ড ব্রিসল দাঁতের এনামেল ক্ষয় করে এবং মাড়ি কেটে রক্তপাত ঘটায়। সবসময় ‘সফট’ বা ‘এক্সট্রা সফট’ ব্রাশ ব্যবহার করুন।

  • সঠিক ব্রাশের আকৃতি: খুব বড় মাথার ব্রাশ মুখের ভেতরে আক্কেল দাঁত পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে না। তাই ছোট এবং গোলাকার মাথার ব্রাশই দাঁতের স্বাস্থ্যের জন্য সেরা।

  • ব্রাশ সংরক্ষণের নিয়ম: ব্যবহারের পর ব্রাশ ভালো করে ধুয়ে সোজা করে দাঁড় করিয়ে রাখুন। ভুলেও বাথরুমের বদ্ধ জায়গায় বা টয়লেটের পাশে তা রাখবেন না। এছাড়া ব্রাশে প্লাস্টিকের ক্যাপ আটকে রাখলে আর্দ্রতার কারণে ব্যাকটেরিয়া আরও দ্রুত বাড়ে।

মাত্র ৪০-৬০ টাকার একটি টুথব্রাশ নিয়মিত না বদলালে ডেন্টিস্টের চেম্বারে হাজার হাজার টাকা খরচ হতে পারে। তাই আজই নিজের ও পরিবারের টুথব্রাশটি পরীক্ষা করে দেখুন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *