ব্রিকস নৈশভোজে বড় চমক! শিল্পপতির বাড়িতে আমন্ত্রণ রক্ষা করে বাংলায় বিশাল বিনিয়োগ টানছেন শুভেন্দু?

রাজ্যে বড় অঙ্কের শিল্প বিনিয়োগ টানতে এবার আরও আক্রমণাত্মক ও সক্রিয় ভূমিকা নিতে চলেছে রাজ্য সরকার। আগামী দিনে দিল্লির ব্রিকস (BRICS) সম্মেলনের বিশেষ নৈশভোজে যোগ দেওয়ার পাশাপাশি শিল্পপতি মুকেশ আম্বানির সঙ্গে দেখা করতে মুম্বই সফরে যাচ্ছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সরকারের মূল লক্ষ্য, কর্পোরেট জায়ান্টদের আরও বেশি করে পশ্চিমবঙ্গের অর্থনৈতিক উন্নয়নে সামিল করা।
মেগা বিনিয়োগ ও একাধিক নতুন প্রকল্পের রূপরেখা: চলতি মাসের শেষের দিকে কলকাতার নিউটাউনে আদানি গ্রুপের প্রস্তাবিত প্রায় ২০০০ শয্যাবিশিষ্ট একটি বিশাল হাসপাতালের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে স্বয়ং গৌতম আদানির। এই হাসপাতালের অর্ধেকের বেশি আসন আর্থিকভাবে পিছিয়ে পড়া সাধারণ মানুষের জন্য বরাদ্দ থাকবে। পাশাপাশি, পূর্ব মেদিনীপুরের জুনপুটে ডিফেন্স রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশন (DRDO)-এর প্রস্তাবিত প্রতিরক্ষা প্রকল্প এবং অস্ত্র ব্যবস্থা পরীক্ষার কেন্দ্র স্থাপনের কাজও দ্রুত এগিয়ে চলেছে।
গত চার মাসে রাজ্যে একাধিক নতুন শিল্পপ্রকল্পের কাজ তীব্র গতিতে শুরু হয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো—
-
মেজিয়াতে ১৫ হাজার কোটি টাকার শ্যাম স্টিল সম্প্রসারণ প্রকল্প।
-
সাঁকরাইলে ৬০০ কোটি টাকা ব্যয়ে আমূলের সুদৃশ্য মিষ্টির প্ল্যান্ট তৈরির কাজ।
-
রঘুনাথপুরে অমিত মেটালিকসের ১৫০০ কোটি টাকার নতুন প্রকল্পের ভূমিপূজা।
-
হলদিয়া পেট্রোকেমিকলসের ৬০০০ কোটি টাকার সম্প্রসারণ প্রকল্প, যা দুর্গাপুজোর আগেই উদ্বোধন হতে চলেছে।
জমি হস্তান্তর ও কর্মসংস্থানের সুযোগ: পুজোর আগেই রাজ্যের শিল্পমহলে বড় স্বস্তি এনে দিয়ে দীর্ঘদিনের বকেয়া ৩৩টি শিল্প সংস্থাকে জমি হস্তস্তরের প্রস্তাবে মন্ত্রিসভা ছাড়পত্র দিয়েছে। খুব শীঘ্রই এক বিশেষ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এই জমিগুলি শিল্পপতিদের হাতে তুলে দেওয়া হবে। সরকারের এই মেগা পদক্ষেপের ফলে প্রত্যক্ষ কর্মসংস্থানের সুযোগ প্রায় তিন হাজার থেকে বাড়িয়ে সাত হাজারে গিয়ে পৌঁছবে বলে আশা করা হচ্ছে। এর পাশাপাশি ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প এবং সহায়ক ক্ষেত্রগুলিতেও প্রচুর মানুষের পরোক্ষ কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে। আন্তর্জাতিক ও জাতীয় সংস্থাকে বাংলায় ডেকে এনে রাজ্যের অর্থনৈতিক ভিত্তিকে আরও শক্তিশালী করার ওপর জোর দিচ্ছে বর্তমান প্রশাসন।