বলিউড থেকে রাজনীতির ময়দান—AI ছবির ঝড়ে কাঁপছে সোশ্যাল মিডিয়া, নেপথ্যের সত্যিটা জানেন কি?

সোশ্যাল মিডিয়া খুললেই এখন চোখের সামনে যেন ফিরে আসছে আটের দশক (AI 80s Photo Trend)। কারও চুলে ভিনটেজ ছাঁট, কারও পরনে ডেনিম জ্যাকেট, আবার কোথাও সেই সোনালি নস্ট্যালজিক বলিউড আবহ। কিন্তু আসল আটের দশকে তোলা ছবি নয়, এই সমস্ত লুক তৈরি হচ্ছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা AI-এর জাদুতে। মুহূর্তের মধ্যে নিজের বর্তমান ছবি পাল্টে ফেলে কয়েক দশক অতীতে চলে যাওয়ার এই ট্রেন্ড এখন দারুণ জনপ্রিয়। শুধু সাধারণ মানুষ নন, কিয়ারা আডবাণী, সিদ্ধার্থ মালহোত্রা থেকে শুরু করে শশী থারুর বা পীযূষ গোয়ালের মতো রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বরাও মেতেছেন এই ট্রেন্ডে। কিন্তু চোখের পলকে তৈরি হওয়া এই একটি ছবির নেপথ্যে লুকিয়ে রয়েছে বিদ্যুৎ, জল এবং বিপুল প্রযুক্তিগত পরিকাঠামোর এক বিশাল খরচ, যা পরিবেশের উপর ফেলছে গভীর প্রভাব।
পদ্ধতিটি অত্যন্ত সহজ—একটি পরিষ্কার ছবি AI ইমেজ জেনারেটরে আপলোড করে পোশাক, চুল ও ব্যাকগ্রাউন্ডের জন্য আটের দশকের প্রম্পট দিলেই মুহূর্তের মধ্যে তৈরি হয়ে যাচ্ছে ভিনটেজ লুক। কিন্তু এই কয়েক সেকেন্ডের কাজের পিছনে কাজ করছে শক্তিশালী ডেটা সেন্টার এবং বিশেষ প্রসেসর। গবেষকদের একাংশের মতে, একটি AI ছবি তৈরি করতে উল্লেখযোগ্য পরিমাণে বিদ্যুৎ খরচ হয়। যখন লক্ষ লক্ষ মানুষ প্রতিদিন এই ধরনের ট্রেন্ডে মেতে বারবার ছবি তৈরি করেন, তখন তার সম্মিলিত প্রভাব গিয়ে পড়ে শক্তির প্রধান উৎসগুলির উপর।
শুধু বিদ্যুৎ নয়, এই বিশাল ডেটা সেন্টারগুলির তাপ নিয়ন্ত্রণে রাখতে এবং কুলিং সিস্টেম সচল রাখতে প্রচুর জলের প্রয়োজন হয়। পাশাপাশি, এই প্রযুক্তি চালানোর জন্য প্রয়োজনীয় হার্ডওয়্যার, সেমিকন্ডাক্টর এবং খনিজ উত্তোলনের পুরো প্রক্রিয়াটিও পরিবেশের জন্য বেশ ব্যয়বহুল। প্রযুক্তির অগ্রগতিতে কিছু ক্ষেত্রে প্রসেসর অনেক বেশি দক্ষ হলেও, ব্যবহারের মাত্রা বহুগুণ বেড়ে যাওয়ায় শক্তির অপচয় কমছে না।
ফলে প্রশ্নটা কেবল ‘একটি AI ছবি বানালে কতটা ক্ষতি হয়?’—তা নয়। বরং আসল প্রশ্নটি আরও গভীর: এই তাৎক্ষণিক বিনোদনের আসল দাম কি চুকিয়ে দিতে হচ্ছে আমাদের অজান্তেই?