‘নদী যেমন সাগরে মেশে…’ শিকাগো বক্তৃতার ১৩৩ বছর পূর্তিতে বিবেকানন্দকে স্মরণ মোদীর

আজ থেকে ঠিক ১৩৩ বছর আগের এই দিনে, ১৮৯৩ সালের ১১ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের শিকাগোয় বিশ্বধর্ম মহাসভায় এক ইতিহাস সৃষ্টি করেছিলেন স্বামী বিবেকানন্দ। তাঁর সেই কালজয়ী ভাষণে ফুটে উঠেছিল ভারতের চিরন্তন সহনশীলতা, সার্বজনীন গ্রহণযোগ্যতা এবং সম্প্রীতির বার্তা। ঐতিহাসিক সেই স্মারক দিবসে সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ‘এক্স’-এ একটি বিশেষ পোস্টের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী লিখেছেন, “১১ই সেপ্টেম্বর ১৮৯৩, শিকাগো। স্বামী বিবেকানন্দের সেই মুগ্ধকর ভাষণ ভারতের সভ্যতার মূল চেতনার এক রূপরেখা তুলে ধরেছিল। তাঁর সেই প্রেরণাদায়ী বাণী আজও বিশ্বজুড়ে সমানভাবে প্রতিধ্বনিত হচ্ছে।”
বিবেকানন্দের ভাষণের নানা গুরুত্বপূর্ণ অংশ তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন, ধর্মীয় সহনশীলতা এবং বিশ্বের সমস্ত পীড়িত ও বিভিন্ন ধর্মাবলম্বী মানুষকে আশ্রয় দেওয়ার ক্ষেত্রে ভারতের এক দীর্ঘ ঐতিহ্য রয়েছে। শিকাগোর সেই মহাসভায় স্বামী বিবেকানন্দ সগর্বে ঘোষণা করেছিলেন, তিনি এমন এক ধর্মের অনুসারী হতে পেরে গর্বিত, যা বিশ্বকে সহনশীলতা এবং সার্বজনীন গ্রহণযোগ্যতা উভয়ই শিখিয়েছে। তিনি স্পষ্ট বার্তা দিয়েছিলেন যে, কেবল ধর্মীয় সহনশীলতা নয়, ভারত সমস্ত ধর্মকেই সত্য বলে স্বীকার করে। শ্রীমদ্ভগবদ্গীতার বাণী উদ্ধৃত করে তিনি বুঝিয়েছিলেন, যেভাবে বিভিন্ন উৎস থেকে প্রবাহিত নদীগুলি শেষ পর্যন্ত এক মহাসাগরেই মিশে যায়, ঠিক তেমনি মানবজাতির নানা ধর্মীয় পথও চূড়ান্তভাবে একই পরম সত্তার দিকে ধাবিত হয়। ভাষণে তিনি অন্ধ গোঁড়ামি, ধর্মান্ধতা ও সাম্প্রদায়িকতার তীব্র নিন্দা জানিয়ে আশা প্রকাশ করেছিলেন যে, তাঁর এই শান্তির বার্তা সমগ্র বিশ্বে হিংসা, রক্তপাত ও ধর্মীয় বিদ্বেষের অবসান ঘটাবে।
এদিকে ১১ সেপ্টেম্বরের এই ঐতিহাসিক দিনটির সঙ্গেই বিশ্বজুড়ে সমান্তরালভাবে স্মরণ করা হয় অন্য এক মর্মান্তিক অধ্যায়কে। ২০০১ সালের এই দিনেই ওসামা বিন লাদেনের ছক করা ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে মোট ২,৯৭৭ জন নিরীহ মানুষের মৃত্যু হয়েছিল। এই হৃদয়বিদারক ট্র্যাজেডি পরবর্তীতে গোটা বিশ্বের আন্তর্জাতিক রাজনীতি, সন্ত্রাসবাদ-বিরোধী নীতি, সামরিক অভিযান এবং অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তন এনেছিল। প্রতি বছরের মতো এবারও নিউইয়র্কের ‘গ্রাউন্ড জিরো’-তে নিহতদের স্মরণে গভীর শোক ও শ্রদ্ধার সঙ্গে বার্ষিক অনুষ্ঠান আয়োজিত হচ্ছে, যেখানে স্বজনহারা পরিবারের সদস্যরা প্রিয়জনদের নাম উচ্চারণ করে তাঁদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাচ্ছেন।