গেরুয়া বসন আর সুফি সাধকের প্রসঙ্গ! বিধানসভার বিশেষ অধিবেশনে ঋতব্রতর মন্তব্যে শোরগোল

রাজ্যের রাজনৈতিক অঙ্গনে ফের উত্তাপ ছড়িয়েছে বিধানসভার বিশেষ অধিবেশনকে কেন্দ্র করে। যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে দেওয়ালে লেখা স্লোগান এবং কিষেণজির নাম উল্লেখ করে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী কড়া বার্তা দেওয়ার পর, এবার তার তীব্র পাল্টা জবাব দিয়েছেন বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। কোনও দেশবিরোধী স্লোগান বরদাস্ত করা হবে না বলে মুখ্যমন্ত্রী যে মন্তব্য করেছেন, তাকে সামনে রেখেই প্রশ্ন তোলেন ঋতব্রত।

বিধানসভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় সরাসরি জানতে চান, “ফ্রি প্যালেস্টাইন স্লোগান কবে থেকে দেশবিরোধী হল?” এই প্রসঙ্গে তিনি কেন্দ্রীয় সরকারের অবস্থানের কথা স্মরণ করিয়ে দেন। তিনি উল্লেখ করেন, ২০২৫ সালের অগস্ট মাসে বিদেশ মন্ত্রকের প্রতিমন্ত্রী কীর্তিবর্ধন সিং সংসদে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছিলেন যে, রাষ্ট্রপুঞ্জে প্যালেস্টাইনের সদস্যপদের পক্ষে রয়েছে ভারত সরকারের সম্মতি। কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর সেই বক্তব্যকে হাতিয়ার করেই শাসক শিবিরকে কোণঠাসা করার চেষ্টা করেন তিনি।

বিতর্ক কেবল প্যালেস্টাইন ইস্যুতেই সীমাবদ্ধ থাকেনি। অধিবেশনের আলোচনাসময় শ্রীকৃষ্ণ চৈতন্য ও স্বামী বিবেকানন্দের পাশাপাশি হাজি ওয়ারিশ আলি শাহের প্রসঙ্গও টেনে আনেন বিরোধী দলনেতা। তিনি উল্লেখ করেন, সুফি সাধক ওয়ারিশ আলি শাহের অনুগামীরা মক্কায় তীর্থ করতে যান গেরুয়া বসন পরেই। এই প্রসঙ্গ ওঠার পরেই বিধানসভায় রাজনৈতিক উত্তাপ চরমে ওঠে। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এর জবাব দিতে উঠলে ঋতব্রত রসিকতার সুরে জানান যে, ববি হাকিম ও আখরুজ্জামান তাঁকে এই পয়েন্টটি বাতলে দিয়েছেন।

পাশাপাশি, এদিন পেশ হওয়া কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয় সংক্রান্ত নতুন বিল নিয়েও কড়া সমালোচনা করেছেন ঋতব্রত। তাঁর স্পষ্ট বক্তব্য, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সংক্রান্ত এই বিল যদি কোনো রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা হয়, তবে তা রাজ্যের শিক্ষার কাঠামোর জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর প্রমাণিত হবে। সব মিলিয়ে, বিধানসভার বিশেষ অধিবেশনের এই তপ্ত বাক্যবিনিময় আগামী দিনে রাজ্য রাজনীতিতে আরও বড় বিতর্কের জন্ম দিতে পারে বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহলের একাংশ।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *