আইনি লড়াইয়ের জেরে পিছোল মুখ্যমন্ত্রীর সভা! শ্রীরামপুর ইস্যুতে নতুন কী জানাল আদালত?

দীর্ঘ আইনি টানাপড়েন এবং হাইকোর্টের নির্দেশকে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া জটিলতার জেরে শ্রীরামপুরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পূর্বনির্ধারিত সভা আপাতত স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নিলেন উদ্যোক্তারা। বৃহস্পতিবার দিনের শেষে এই খবর সামনে আসতেই রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে তীব্র গুঞ্জন।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, শ্রীরামপুরে সভা বা মিছিলের অনুমতি নিয়ে এর আগে একক বেঞ্চের রায়ের বিরুদ্ধে রাজ্য সরকার এবং মাহেশ জগন্নাথ মন্দির কর্তৃপক্ষ ডিভিশন বেঞ্চের দ্বারস্থ হয়। সিঙ্গল বেঞ্চ মিছিলের অনুমতি না দিলেও শর্তসাপেক্ষে নির্দিষ্ট লোকসংখ্যার উপস্থিতিতে মিটিং করার অনুমতি দিয়েছিল। তবে সেই নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে এবং সভার স্থান সংক্রান্ত জটিলতা কাটাতে মামলা গড়ায় প্রধান বিচারপতির ডিভিশন বেঞ্চ পর্যন্ত।
উদ্যোক্তাদের একটি সূত্র মারফত জানা যাচ্ছে, যেহেতু ডিভিশন বেঞ্চে এই মামলার দ্রুত শুনানির আবেদন মঞ্জুর হয়েছে এবং শুক্রবার দুপুর সাড়ে বারোটার সময় এই সংক্রান্ত শুনানি রয়েছে, তাই স্থগিত রাখা হয়েছে শুক্রবারের কর্মসূচি। এই শুনানিতে সভার বিকল্প স্থান নিয়ে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করবে রাজ্য। পাশাপাশি, শ্রীরামপুরেই কেন এই সভা করা জরুরি এবং তৃণমূল কর্মীদের পুলিশি হেনস্থার শিকার হতে হয়েছে কি না, সেই সমস্ত অভিযোগ তুলে অতিরিক্ত হলফনামায় নিজেদের বক্তব্য পেশ করার সুযোগ পাবেন মামলার প্রধান কান্ডারী তথা প্রাক্তন বিধায়ক অসিত মজুমদার।
উল্লেখ্য, শুক্রবার ১১ সেপ্টেম্বর দুপুর দুটো থেকে বিকেল পাঁচটা পর্যন্ত শ্রীরামপুরে পাঁচ হাজার মানুষের জমায়েতে একটি মিছিলের আবেদন জানিয়েছিল কালীঘাট তৃণমূলের পক্ষ। সেই মিছিলেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপস্থিত থাকার কথা ছিল। তবে আইনি জটিলতা এবং ডিভিশন বেঞ্চের রায়ের ওপর নজর রেখেই আপাতত কর্মসূচি পিছিয়ে দেওয়ার পথে হাঁটলেন উদ্যোক্তারা। শুক্রবার দুপুরের শুনানির পর আদালতের রায় কোন দিকে ঘোরে, এখন সেদিকেই তাকিয়ে রাজনৈতিক মহল।