ফ্রিজে খাবার রাখছেন? ৩ দিন পেরোলেই শরীরে জমছে মারাত্মক বিষ!

ব্যস্ত শহরে উইকএন্ডে একসঙ্গে অনেকটা রান্না করে ফ্রিজে ঢুকিয়ে রাখার অভ্যাস কমবেশি সবারই আছে। ছুটির দিনের রান্না করা তরকারি কিংবা মাছ-মাংস সপ্তাহজুড়ে চালিয়ে দেওয়াটা দৈনন্দিন জীবনের অঙ্গ হয়ে দাঁড়িয়েছে। কিন্তু কখনও ভেবে দেখেছেন কি, ফ্রিজের ঠান্ডায় খাবার সুরক্ষিত থাকলেও তা ঠিক কতদিন পর্যন্ত খাওয়ার উপযোগী থাকে? সামান্য ভুলের কারণে এই সুস্বাদু খাবারই শরীরের জন্য বড় ধরনের বিপদের কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে। খাদ্য পুষ্টিবিদ এবং চিকিৎসকদের মতে, রান্না করা খাবার দীর্ঘ সময় ঘরের তাপমাত্রায় ফেলে রাখা একদমই উচিত নয়। সাধারণত খাবার রান্নার পর দুই ঘণ্টার মধ্যে তা ঠান্ডা করে ফ্রিজে ঢুকিয়ে দেওয়া বাধ্যতামূলক। তবে ফ্রিজে রাখলেই যে কোনো খাবার মাসের পর মাস ভালো থাকবে, এই ধারণা সম্পূর্ণ ভুল। বিভিন্ন খাবারের স্থায়িত্বকাল একেক রকম হয়ে থাকে। কোন খাবার কতদিন ফ্রিজে রাখা নিরাপদ? ভাত ও রুটি: রান্না করা ভাত বা বেঁচে যাওয়া রুটি ২৪ ঘণ্টার বেশি ফ্রিজে সংরক্ষণ না করাই ভালো। ভাতে থাকা স্টার্চ দ্রুত ব্যাকটেরিয়া জন্মাতে সাহায্য করে। মাছ ও মাংসের তরকারি: রান্না করা মাছ, মুরগি বা খাসির মাংসের কারি ফ্রিজের নরমাল তাপমাত্রায় সাধারণত ৩ থেকে ৪ দিন পর্যন্ত ভালো থাকে। এর বেশি দিন হলে তা বর্জন করা উচিত। ডাল ও সবজির তরকারি: সবজির তরকারি বা ডাল সর্বোচ্চ দুই থেকে তিন দিন পর্যন্ত ফ্রিজে রাখা যেতে পারে। এরপরে খেলে পুষ্টিগুণ তো নষ্ট হয়ই, পেটের গোলযোগের ঝুঁকিও বাড়ে। মিষ্টি বা ডেজার্ট: যেকোনো ধরনের ডেজার্ট বা মিষ্টি জাতীয় খাবার ফ্রিজে ৩ থেকে ৪ দিনের বেশি রাখা নিরাপদ নয়। পুষ্টিবিজ্ঞানীদের পরামর্শ, ফ্রিজ থেকে পুরো হাঁড়ি বা কন্টেইনার বের করে বারবার গরম করা থেকে বিরত থাকুন। যতটুকু খাওয়ার প্রয়োজন, ঠিক ততটুকুই আলাদা করে গরম করা উচিত। এছাড়া খাবার সংরক্ষণের জন্য সবসময় এয়ার-টাইট কাচ বা ভালো মানের প্লাস্টিকের পাত্র ব্যবহার করা দরকার, যাতে বাইরে থেকে বাতাস বা ব্যাকটেরিয়া প্রবেশ করতে না পারে। একটু সচেতনতা আর সঠিক নিয়ম মেনে চললেই খাবার অপচয়ের হাত থেকে যেমন বাঁচা সম্ভব, তেমনই সুরক্ষা থাকে পরিবারের সুস্বাস্থ্যের।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *