৭ বছরের শিশুর নিখাদ সাংবাদিকতা! বারান্দা থেকে বৃষ্টির ধ্বংসলীলা দেখে বড় বড় রিপোর্টাররাও অবাক

শিশুদের সরলতা এবং অকপট কথার জাদুতে মুহূর্তেই মন ভালো হয়ে যায় সবার। তবে এবার সাত বছর বয়সের এক খুদের ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় যে আলোড়ন তুলেছে, তা সত্যিই অবাক করার মতো। প্রবল বৃষ্টির পর নিজেদের এলাকার হাল যেভাবে সে ক্যামেরাবন্দি করেছে, তার সাবলীল ভঙ্গি দেখলে পেশাদার সাংবাদিকরাও লজ্জা পাবেন। মোবাইল হাতে নিয়ে বারান্দায় এসে যেভাবে সে পরিস্থিতির বর্ণনা দিয়েছে, তা দেখে হেসে গ গড়িয়ে পড়ছেন নেটিজেনরা।
ভাইরাল হওয়া ওই ভিডিওটিতে দেখা যায়, ছোট্ট মেয়েটি একা হাতে ফোন নিয়ে সোজা বারান্দায় চলে আসে। এরপর নিজের মতো করে ভারী বর্ষণের পরবর্তী এলাকার চিত্র তুলে ধরতে শুরু করে সে। ক্যামেরার সামনে বেশ আত্মবিশ্বাসের সঙ্গেই সে বলে ওঠে, “দেখতে পাচ্ছ? এটাই আমার এলাকা।” চারপাশের জমে থাকা নোংরা জল, বৃষ্টিতে বেহাল রাস্তাঘাট এবং আশেপাশের বাড়ির দুর্দশার কথা সে এমন নিখাদ ভঙ্গিতে তুলে ধরে, যা দেখে হাসি আটকানো দায় হয়ে পড়ে। বর্ষার এই চিরচেনা রূপ সে এক অদ্ভুত রসিকতা ও ব্যঙ্গের সুরে ফুটিয়ে তুলেছে।
মেয়েটির মা নীতু খান্ডেলওয়াল এই মজার ভিডিওটি এক্স হ্যান্ডেলে (পূর্বের টুইটার) শেয়ার করেছেন। মায়ের অজান্তেই সম্পূর্ণ নিজের বুদ্ধিতে মেয়েটি এই ভিডিও শুট করেছিল। পরে নিজের ফোনে আচমকাই এটি দেখতে পান নীতু। তিনি জানিয়েছেন, তাঁর মেয়ের নিজস্ব একটি পডকাস্ট চ্যানেল খোলার সুপ্ত ইচ্ছে রয়েছে এবং এই ভিডিওটিতে তার দুর্দান্ত আত্মবিশ্বাস স্পষ্ট ফুটে উঠেছে। আজকের প্রজন্ম ভাবনার চেয়েও অনেক বেশি এগিয়ে ও বুদ্ধিমান বলে মনে করেন এই মা।
এদিকে খুদের এই প্রতিভার প্রশংসার পাশাপাশি ভিডিওটি একটি গুরুতর সামাজিক বিতর্কেরও জন্ম দিয়েছে। নেটিজেন ও অভিভাবকদের একাংশের মতে, এত অল্প বয়সে শিশুদের সোশাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মের সঙ্গে যুক্ত করা উচিত নয়। লাইক ও কমেন্টের নেশা কীভাবে ছোটদের মানসিকতার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে, সে বিষয়েও সতর্কবার্তা দিয়েছেন অনেকে।