সারাদিন চ্যাট, দেখা করা আর গভীর মেলামেশা—তবুও নেই কমিটমেন্ট! কেন এত জনপ্রিয় হচ্ছে ‘মেবিলেটারশিপ’?

বদল আসছে সম্পর্কেও। বর্তমান প্রজন্মের কথা ও চিন্তাধারার মতোই বদলে গিয়েছে তাদের ভালোবাসার ধরনও। সিচুয়েশনশিপ কিংবা বেঞ্চিংয়ের মতো শব্দগুলো এখন অতীত। ডেটিংয়ের দুনিয়ায় জেন জি এখন মজেছে এক নতুন ধারণায়, যার নাম দেওয়া হয়েছে ‘মেবিলেটারশিপ’। সম্পর্কের চেনা ছক ভেঙে এই নতুন ট্রেন্ড এখন সোশ্যাল মিডিয়ায় দারুণ চর্চায় রয়েছে।
সম্পর্কের ঠিক এই পর্যায়টিতেই এখন বেশি সময় কাটাচ্ছে নতুন প্রজন্ম। ধরুন, আপনি কারও সঙ্গে সম্পর্কে রয়েছেন। নিয়মিত দেখা হচ্ছে, কথা হচ্ছে। সাধারণ কুশল বিনিময় নয়, বরং জীবনের প্রতিটি মুহূর্তের আপডেট দেওয়া-নেওয়া এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনাও চলছে। দুজনে বুঝতে পারছেন যে আপনারা প্রেমে পড়েছেন। কিন্তু তবুও এখনই এই সম্পর্কের কোনো নির্দিষ্ট নাম দিতে চাইছেন না বা জীবন কোন দিকে এগোবে তা নিয়ে স্পষ্ট নন। সম্পর্কে থাকলেও তাতে কোনো লেবেল সেঁটে দিতে নারাজ তাঁরা, কমিটমেন্টের তো প্রশ্নই নেই। মূলত ভবিষ্যতে সম্পর্কে গেলেও যেতে পারি, আবার নাও যেতে পারি—এই মানসিকতা নিয়েই তৈরি হয়েছে ‘মেবিলেটারশিপ’।
বিশ্লেষকদের মতে, ডেটিং অ্যাপ এবং সোশ্যাল মিডিয়ার যুগে একটি সোয়াইপেই যখন মনের মতো সঙ্গী খুঁজে পাওয়া সম্ভব, তখন অপশনের অভাব নেই। তাই দ্রুত কোনো সম্পর্কে পাকাপাকিভাবে জড়িয়ে পড়ার বদলে ধীরেসুস্থে বিষয়টি যাচাই করে নিতে চাইছে জেন জি। বর্তমানে যাঁর সঙ্গে সময় কাটাচ্ছেন, তিনি আদতে যোগ্য কি না বা ভবিষ্যতে আরও ভালো কোনো বিকল্প মিলবে কি না, তা দেখে নিতেই এই পথ বেছে নিচ্ছেন তাঁরা।
আপনিও কি এই জটিল সম্পর্কের জালে জড়িয়ে পড়েছেন? বুঝবেন কী করে? সারাদিন দফায় দফায় কথা বলা এবং নিজেদের মতো করে সময় কাটানো সত্ত্বেও যদি ভবিষ্যৎ নিয়ে কোনো আলোচনা না থাকে এবং সম্পর্কের সঠিক পরিণতি কী হবে তা নিয়ে যদি দুপক্ষেরই মনে এক ধরণের ইতস্তত ভাব বা অনিশ্চয়তা কাজ করে, তবে আপনিও রয়েছেন ‘মেবিলেটারশিপ’-এর মাঝেই। প্রেমিক-প্রেমিকা না হয়েও সঙ্গীর মতো আচরণ এবং ঘনিষ্ঠতা বজায় রাখার এই ট্রেন্ড এখন প্রেমের বাজারে রীতিমতো হট কেক।