বাঙালির রান্নাঘর থেকে কেন হারিয়ে গেল বঁটি? ছুরি ছেড়ে আজও কেন এই দেশি অস্ত্রেই ভরসা পুরনো দিনের?

বাঙালি ঘর মানেই উনুনের আঁচে রান্নার সুবাস আর ঘরের এক কোণে অবহেলায় পড়ে থাকা একটি বঁটি। আধুনিকতার ছোঁয়া লাগা আজকের শহুরে রান্নাঘরে ফল কাটার ছুরি, চপার কিংবা নানা বৈদ্যুতিক যন্ত্রের ভিড়ে বঁটির ব্যবহার প্রায় উঠেই গেছে। কিন্তু মাত্র কয়েক দশক আগেও বাঙালি পরিবারের হেঁশেলে রান্নার অন্যতম প্রধান ও অপরিহার্য হাতিয়ার ছিল এই ঐতিহ্যবাহী সরঞ্জামটি।
ঐতিহ্যবাহী এই বঁটির প্রধান বিশেষত্ব ছিল এর স্থির ও ধারালো ফলক। ছুরির মতো হাতে ধরে বা ঝুলিয়ে কাটার ঝক্কি এতে থাকত না। মাটিতে সোজা হয়ে বসে বঁটির সামনের অংশে মাছ, শাকসবজি কিংবা নারকেল অনায়াসেই কুচিয়ে নেওয়া যেত। বিশেষ করে মাছ কাটার ক্ষেত্রে বঁটির কদর ছিল সবার ওপরে। বড় থেকে ছোট—যেকোনো মাছ পরিষ্কার করা এবং নিখুঁত টুকরো করার কাজে পারদর্শী হাতের ছোঁয়ায় বঁটি হয়ে উঠত হেঁশেলের সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য সঙ্গী।
শুধু মাছ বা তরিতরকারি কাটা হওয়াই নয়, নারকেল কোড়ানো কিংবা সুপারি কাটার মতো বিভিন্ন ঘরোয়া কাজেও বঁটির জুড়ি মেলা ভার ছিল। বাংলার ঐতিহ্যবাহী রান্নার ধরন এবং মাটিতে বসে কাজ করার চিরন্তন অভ্যাসের সঙ্গে এই সরঞ্জামের নকশাও দারুণভাবে মিলে গিয়েছিল।
তবে সময় বদলের সঙ্গে সঙ্গে রান্নাঘরের রূপরেখাও সম্পূর্ণ বদলে গিয়েছে। আধুনিক যন্ত্রপাতির রমরমা বাজারে অনেক বাড়ির অন্দরেই আজ বঁটি কেবল পুরনো দিনের এক ঝাপসা স্মৃতি মাত্র। তা সত্ত্বেও, ঠাকুমা-দিদাদের আমলের সেই বঁটি আজও মনে করিয়ে দেয় যে, বাঙালির রান্নার আসল স্বাদ কেবল মশলাপাতি বা উপাদানেই নয়, তার সঙ্গে জড়িয়ে থাকা কিছু চেনা সরঞ্জামের ঐতিহ্যও সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ।