থাইরয়েডের সমস্যায় কারও ওজন বাড়ে, আবার কারও আচমকা কমে যায় কেন? জানুন আসল কারণ!

থাইরয়েড গ্রন্থির সমস্যার সঙ্গে ওজন বৃদ্ধির যোগসূত্র বহু পুরোনো এবং বহুচর্চিত বিষয়। কিন্তু অনেকেই হয়তো জানেন না যে এই একই গ্রন্থির গন্ডগোলের কারণে কিছু মানুষের ক্ষেত্রে ওজন বাড়ার পরিবর্তে উলটো প্রক্রিয়াও ঘটে থাকে। অর্থাৎ, শরীর হঠাৎ করেই অস্বাভাবিকভাবে রোগা বা শুকিয়ে যেতে শুরু করে। চিকিৎসা বিজ্ঞান অনুযায়ী, থাইরয়েড হরমোনের ভারসাম্যহীনতা মানবদেহের বিপাক ক্রিয়া বা মেটাবলিজমের ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলে, যার জেরে এই আপাতবিরোধী শারীরিক পরিবর্তনগুলি দেখা দেয়।

আমাদের গলায় অবস্থিত প্রজাপতির আকারের এই ছোট্ট গ্রন্থিটি শরীর কীভাবে শক্তি উৎপাদন ও ব্যবহার করবে, তা নিয়ন্ত্রণ করে। থাইরয়েডের মাত্রা যখন প্রয়োজনের তুলনায় কমে যায়, যাকে চিকিৎসা পরিভাষায় হাইপোথাইরয়েডিজম বলা হয়, তখন মেটাবলিজমের গতি মারাত্মকভাবে শ্লথ হয়ে পড়ে। এর ফলে শরীরে ক্যালোরি ঠিকমতো পোড়ে না এবং অতিরিক্ত চর্বি ও জল জমে ওজন দ্রুত বাড়তে শুরু করে। এছাড়া এই সমস্যায় ভোগা রোগীদের শরীরে ক্লান্তি, অলসতা এবং জল ধরে রাখার প্রবণতাও লক্ষ্য করা যায়।

এর বিপরীতে, থাইরয়েড গ্রন্থি যদি অতিরিক্ত মাত্রায় হরমোন তৈরি করতে শুরু করে, তবে তাকে হাইপারথাইরয়েডিজম বলা হয়। এই অবস্থার জেরে শরীরের ভেতরের মেটাবলিজম বা বিপাক হার অস্বাভাবিক দ্রুত হয়ে যায়। রোগী প্রচুর পরিমাণে খাবার খাওয়া সত্ত্বেও তাঁর শরীর সেই সমস্ত ক্যালোরি খুব দ্রুত পুড়িয়ে ফেলতে থাকে, যার ফলে ওজন কমতে শুরু করে। অতিরিক্ত হৃদস্পন্দন, বুক ধড়ফড় করা এবং সবসময় একটা অস্থিরতা কাজ করা এই রোগের অন্যতম লক্ষণ। তাই শরীরের ওজনের এই আকস্মিক তারতম্যের পেছনে থাইরয়েডের সঠিক রোগ নির্ণয় এবং সময়মতো চিকিৎসা অত্যন্ত জরুরি।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *