ভারতে টাকা ঢালার হিড়িক বিদেশি বিনিয়োগকারীদের! কোন ৫ খাতে উপচে পড়ছে হাজার হাজার কোটি টাকা?

তাইওয়ান এবং দক্ষিণ কোরিয়ায় সেমিকন্ডাক্টর স্টক বিক্রির ধারা অব্যাহত রেখে বিদেশি পোর্টফোলিও বিনিয়োগকারীরা এখন ভারতের বাজারে বড় অঙ্কের পুঁজি ঢালতে শুরু করেছেন। জুলাই ও আগস্ট—এই দুই মাসে বিভিন্ন খাতে বিদেশি প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরা (FII) মোট ৪৯,৮৩০ কোটি টাকা বিনিয়োগ করেছেন। এর মধ্যে শুধুমাত্র ভোক্তা পরিষেবা খাত থেকেই এসেছে মোট বিনিয়োগের এক-তৃতীয়াংশের বেশি। চলতি অর্থবর্ষের প্রথম ত্রৈমাসিকে ভারতের ৭.৮ শতাংশ জিডিপি প্রবৃদ্ধির হার, কর্পোরেট সংস্থাগুলির চমৎকার ত্রৈমাসিক আয় এবং মার্কিন ডলারের বিপরীতে রুপির স্থিতিশীলতা বিদেশি বিনিয়োগকারীদের মনে নতুন করে ভরসা জুগিয়েছে।
কোন কোন খাতে সবচেয়ে বেশি বিনিয়োগ?
এনএসডিএল-এর তথ্য অনুযায়ী, বিনিয়োগকারীরা এমন সব খাত বা দেশীয় বাজার-কেন্দ্রিক ব্যবসাকে বেশি প্রাধান্য দিচ্ছেন যেগুলিতে উচ্চ নগদ প্রবাহের সম্ভাবনা রয়েছে। এই দুই মাসে সবচেয়ে বেশি লাভবান হয়েছে ভোক্তা পরিষেবা খাত, যেখানে এফআইআই বিনিয়োগ এসেছে ১৮,৬১৮ কোটি টাকা। এছাড়া স্বাস্থ্যসেবা খাতে ১৩,৬৮৬ কোটি টাকা এবং ভোগ্যপণ্য খাতে ১১,২৪৫ কোটি টাকার বিনিয়োগ আকৃষ্ট হয়েছে। পাশাপাশি, আর্থিক এবং তথ্যপ্রযুক্তি খাতে যথাক্রমে ৯,৮০০ কোটি এবং ৭,৪৬১ কোটি টাকার বিনিয়োগ এসেছে। সব মিলিয়ে এই ৫টি খাতে ৬০,৮১০ কোটি টাকার শক্তিশালী ক্রয়ের হিড়িক দেখা গেছে।
এসবিআই সিকিউরিটিজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, জনগণের বর্ধিষ্ণু আয়ের জেরে উচ্চমানের ফ্যাশন, বিলাসবহুল প্রসাধনী, প্রিমিয়াম খুচরা ব্যবসা এবং ভালো মানের আতিথেয়তার দিকে মানুষের ঝোঁক দ্রুত বাড়ছে। পাশাপাশি, নিফটি হেলথকেয়ার ইনডেক্সের লাগাতার ঊর্ধ্বমুখী দৌড় স্বাস্থ্যসেবা খাতের অবস্থাও পোক্ত করেছে। এমনকি মরগ্যান স্ট্যানলি তথ্যপ্রযুক্তি খাতকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই (AI) প্রযুক্তির হাত ধরে এক সম্ভাবনাময় ‘ডার্ক হর্স’ হিসেবে চিহ্নিত করেছে।
বিনিয়োগের বাইরে রয়েছে কোন খাতগুলি?
একদিকে যখন নির্দিষ্ট কিছু খাতে উপচে পড়ছে বিদেশি বিনিয়োগ, ঠিক তখনই কিছু সেক্টর থেকে টাকা তুলে নেওয়ার প্রবণতাও লক্ষ্য করা গেছে। এর মধ্যে ৫জি পরিকাঠামো এবং স্পেকট্রাম নবায়নের চাপের কারণে টেলিকম খাত থেকে সর্বোচ্চ ১০,৭০৮ কোটি টাকা তুলে নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি, মূলধনী পণ্য খাত থেকে ৫,৬৬৯ কোটি, বিদ্যুৎ খাত থেকে ৪,৪১৬ কোটি এবং এফএমসিজি খাত থেকে ২,৫৪৪ কোটি টাকার বহিঃপ্রবাহ দেখা গেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিদেশি বিনিয়োগকারীরা ফিরে এলেও তারা অত্যন্ত হিসেবি ও সতর্ক পা ফেলছেন।