পাহাড়ে বড় প্রশাসনিক রদবদল! অনীত থাপার পদত্যাগের পরই জিটিএ-র নতুন প্রশাসক হলেন কে?

রাজ্যে পালাবদলের পর পাহাড়ে বড়সড় প্রশাসনিক পরিবর্তন আনল রাজ্য সরকার। গোর্খাল্যান্ড টেরিটোরিয়াল অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (জিটিএ)-এর চিফ এক্সিকিউটিভ পদে অনীত থাপার পদত্যাগের দীর্ঘ দুই মাস পর অবশেষে নতুন প্রশাসক বা ‘অ্যাডমিনিস্ট্রেটর’ নিয়োগ করা হয়েছে। জিটিএ-র মুখ্যসচিব স্মৃতিরঞ্জন মোহান্তিকে নতুন প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। পাহাড়ে প্রশাসনিক শূন্যতা দূর করা, নাগরিক পরিষেবা সচল রাখা এবং বিগত দিনের আর্থিক তছরুপের অভিযোগের তদন্ত ত্বরান্বিত করতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে প্রশাসনিক সূত্রে জানা গিয়েছে।

কেন এই রদবদল?

পশ্চিমবঙ্গ সরকারের স্বরাষ্ট্র ও পার্বত্য বিষয়ক দফতর কর্তৃক প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, গত ১৭ জুন রাজ্যপালের কাছে নিজের পদত্যাগপত্র পাঠিয়েছিলেন জিটিএ-র তৎকালীন চিফ এক্সিকিউটিভ অনীত থাপা, যা গত ২৪ জুন আনুষ্ঠানিকভাবে গৃহিত হয়। এর পাশাপাশি জিটিএ সভার চেয়ারম্যান অঞ্জুল চৌহান এবং ডেপুটি চেয়ারম্যান রাজেশ চৌহানও পদত্যাগ করেন। রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর অনীত থাপার দল ভারতীয় গোর্খা প্রজাতান্ত্রিক মোর্চার (BGPM) ওপর চাপ বাড়তে থাকে এবং একে একে জনপ্রতিনিধিরা পদত্যাগ করতে বাধ্য হন।

দীর্ঘদিন ধরেই জিটিএ-র বিরুদ্ধে ব্যাপক দুর্নীতি ও আর্থিক তছরুপের অভিযোগ তুলে আসছিল রাজনৈতিক দলগুলি। দার্জিলিংয়ের বিজেপি সাংসদ রাজু বিস্তা অভিযোগ করেছেন যে, অতীতে জিটিএ দুর্নীতি ও আমলাতান্ত্রিক স্বেচ্ছাচারিতার আখড়ায় পরিণত হয়েছিল। পাহাড়ে স্বচ্ছতা ফিরিয়ে আনতে রাজ্য সরকার বিচারবিভাগীয় তদন্তের সিদ্ধান্ত নেওয়ায় দুর্নীতিগ্রস্তদের রেহাই পাওয়ার সুযোগ নেই বলেও তিনি মন্তব্য করেছেন।

মুখ্যমন্ত্রীর পাহাড় সফর ও তাৎপর্য

শীর্ষ পদ ফাঁকা থাকায় বিগত দু’মাস ধরে পাহাড়ের সার্বিক উন্নয়ন ও দৈনন্দিন পরিষেবা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছিল। এই পরিস্থিতি সামাল দিতেই রাজ্যপালের নির্দেশে মুখ্যসচিব স্মৃতিরঞ্জন মোহান্তিকে প্রশাসক পদে বসানো হয়েছে। এর মাঝেই রাজ্যে ক্ষমতার পরিবর্তনের পর মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শুভেন্দু অধিকারীর এই পাহাড় সফর রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক দিক থেকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে বিশেষজ্ঞ মহল। পাহাড়ের দীর্ঘদিনের জট কাটানো, দুর্নীতির তদন্তের অগ্রগতি পর্যালোচনা করা এবং নতুন প্রশাসকের সঙ্গে বৈঠক করে পর্যটন ও সার্বিক উন্নয়নের নতুন রূপরেখা তৈরি করাই এই সফরের মূল লক্ষ্য।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *