মহালয়ার আগে পুজো উদ্বোধন নয়! বাতিল কার্নিভালও, দুর্গোৎসব নিয়ে একগুচ্ছ কড়া নির্দেশ শুভেন্দুর

বাঙালির শ্রেষ্ঠ শারদোৎসবের দিনক্ষণ ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গেই শুরু হয়ে গেছে জোর তোড়জোড়। পালাবদলের বাংলায় এবার প্রথম দুর্গাপুজো হওয়ায় সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে পুজো কমিটিগুলির মধ্যে কৌতূহল ছিল তুঙ্গে। সোমবার মিলনমেলা প্রাঙ্গণে পুজো কমিটিগুলির সঙ্গে এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে মিলিত হয়ে একগুচ্ছ বড় ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। রাজ্যের সনাতনী সংস্কৃতিকে মাথায় রেখে এবারের পুজোয় বেশ কিছু যুগান্তকারী পরিবর্তন আনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।

এদিনের বৈঠকে সবথেকে বড় চর্চা ছিল পুজো অনুদান নিয়ে। মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, এবার সব ক্লাবকে অনুদান বাবদ ১ লক্ষ টাকা করে দেওয়া হবে। তবে বড় বাজেটের পুজো কমিটিগুলির উদ্দেশ্যে তিনি বিশেষ আবেদন জানিয়ে বলেছেন, বড় ক্লাবগুলির আর্থিক সাহায্য না নেওয়াই ভালো, সেক্ষেত্রে তিনি তাদের ধন্যবাদ জানাবেন। পাশাপাশি অনুদানের জন্য কীভাবে আবেদন করতে হবে, তার নিয়মকানুনও বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে।

বিগত বছরগুলির ধারা ভেঙে এবার পুজো উদ্বোধনের ক্ষেত্রেও বড়সড় রাশ টানা হয়েছে। আগে যেখানে মহালয়ার অনেক আগেই শহর ও জেলার বিভিন্ন বড় পুজোর উদ্বোধন হয়ে যেত, এবার সেই নিয়মে ছেদ পড়ছে। মুখ্যমন্ত্রী সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, মহালয়ার আগে কোনো পুজো উদ্বোধন করা যাবে না। আগামী মহালয়ায় ইডেন গার্ডেনে এক মেগা শো-র মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে এই শারদোৎসবের শুভ সূচনা করা হবে। শুধু তাই নয়, গত সরকারের আমলের মতো জমকালো কার্নিভালের আয়োজনও এবার হচ্ছে না।

পুজো উদ্যোক্তাদের স্বস্তি দিতে বেশ কিছু প্রশাসনিক ছাড়ের কথাও ঘোষণা করা হয়েছে। এবারের পুজোয় ক্লাবগুলিকে বিদ্যুৎ ও দমকলের কোনো খরচ দিতে হবে না। তবে পরিবেশ ও নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখে প্রতিমা বিসর্জনের সময় ক্রেনের ব্যবহার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। আগামী ২৪ অক্টোবরের মধ্যে সমস্ত প্রতিমা বিসর্জনের কাজ সম্পন্ন করার কড়া নির্দেশিকা জারি করেছে রাজ্য প্রশাসন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *