ক্যারিয়ার বাঁচাতে কি আপস করতেই হবে? কর্মক্ষেত্রের এই চাঞ্চল্যকর ও বিতর্কিত রায়ে আইনি মহলে ঝড়!

গুজরাট হাইকোর্টের একটি অত্যন্ত সংবেদনশীল ও যুগান্তকারী রায় দেশজুড়ে নতুন করে আইনি ও সামাজিক বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। কর্মক্ষেত্রে পদোন্নতি বা ব্যবসায়িক সাফল্যের বিনিময়ে যৌন সুবিধা চাওয়ার মতো গুরুতর অভিযোগের মামলায় এক অভিযুক্ত ম্যানেজারের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া এফআইআর খারিজ করে দিয়েছে আদালত। আদালতের এই পর্যবেক্ষণ ও সিদ্ধান্ত ঘিরে বর্তমানে তীব্র আলোচনা শুরু হয়েছে।

মামলার বিবরণ অনুযায়ী, এক নারী অভিযোগ করেছিলেন যে বিভিন্ন প্রাতিষ্ঠানিক অনুষ্ঠানে তাঁকে অশালীন আচরণ, হয়রানি ও হুমকির মুখে পড়তে হয়। তিনি যখন এই বিষয়ে ওই প্রতিষ্ঠানের প্রধান বা ম্যানেজারের কাছে প্রতিকার চান, তখন তাঁকে ন্যায়বিচার দেওয়ার পরিবর্তে অভিযোগ ধামাচাপা দিতে বলা হয় এবং বলা হয় যে ব্যবসায় উন্নতি করতে চাইলে এই ধরনের শর্ত মেনে নেওয়াটাই নিয়ম। এরপর ওই নারী আইনের দারস্থ হন এবং অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে একাধিক ধারায় মামলা দায়ের করা হয়।

তবে মামলাটি বিচারবিভাগীয় পর্যালোচনায় আসার পর গুজরাট হাইকোর্টের বিচারপতি পিএম রাওয়াল আবেদনকারীর বিরুদ্ধে থাকা এফআইআর খারিজ করার নির্দেশ দেন। আদালতের স্পষ্ট বক্তব্য, ভারতীয় আইন অনুযায়ী অপরাধে প্ররোচনা বা সহায়তা দেওয়ার জন্য অভিযুক্তের মধ্যে একটি সুনির্দিষ্ট ও ইচ্ছাকৃত অপরাধমূলক মানসিকতা থাকা বাধ্যতামূলক। শুধুমাত্র নীরবতা প্রদর্শন, অবহেলা বা অভিযোগের দ্রুত মীমাংসা করতে ব্যর্থ হওয়াকে সব সময় অপরাধে পরোক্ষ সহায়তা হিসেবে গণ্য করা যায় না। আদালতের এই রায়ের ফলে নারীদের কর্মক্ষেত্রের নিরাপত্তা এবং প্রাতিষ্ঠানিক দায়বদ্ধতা নিয়ে বড়সড় প্রশ্নচিহ্ন তৈরি হয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *