মেক্সিকো নাম মুছে দিয়ে মার্কিন অঙ্গরাজ্যের নাম রাখতে চান ‘নিউ আমেরিকা’! ডোনাল্ড ট্রাম্পের নতুন জল্পনা নিয়ে তুঙ্গে বিতর্ক

মেক্সিকো নামটি কেটে তার জায়গায় ‘নিউ আমেরিকা’ লিখে সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি মানচিত্র শেয়ার করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আর এই একটিমাত্র ছবি ঘিরেই এবার মার্কিন মুলুকে শুরু হয়েছে তীব্র রাজনৈতিক ও সামাজিক বিতর্ক। নিউ মেক্সিকো অঙ্গরাজ্যের নাম বদলে আনুষ্ঠানিকভাবে একে ‘নিউ আমেরিকা’ করার কোনো পরিকল্পনা রয়েছে কি না, তা নিয়ে সরাসরি কিছু না জানালেও ট্রাম্পের এই ইঙ্গিতপূর্ণ পোস্ট ইতিমধ্যেই দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়েছে।

ট্রাম্পের সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট ও হোয়াইট হাউসের ভূমিকা

গত রবিবার ডোনাল্ড ট্রাম্প তাঁর নিজস্ব সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ একটি পরিবর্তিত মানচিত্র শেয়ার করেন। সেই মানচিত্রে আমেরিকার নিউ মেক্সিকো অঙ্গরাজ্যের রূপরেখার ওপর ‘নিউ আমেরিকা’ কথাটি বড় করে লেখা ছিল এবং ‘মেক্সিকো’ শব্দটিকে কেটে দেওয়া হয়েছিল। তবে এই ছবি পোস্ট করার নেপথ্যে কোনো সুনির্দিষ্ট ব্যাখ্যা বা সরকারিভাবে রাজ্যর নাম বদলের কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা তিনি করেননি। এমনকি হোয়াইট হাউসের তরফেও এ বিষয়ে কোনো সরকারি বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়নি। যদিও পরবর্তীতে হোয়াইট হাউসের অফিশিয়াল ‘এক্স’ (পূর্বের টুইটার) হ্যান্ডেল থেকেও সেই পোস্টটি রি শেয়ার করা হয়। এর মাত্র কিছুদিন আগেই ফেডারেল ব্যবহারের জন্য ‘লেক অন্টারিও’-র নাম বদলে ‘লেক আমেরিকা’ করার একটি এক্সিকিউটিভ অর্ডারে স্বাক্ষর করেছিলেন ট্রাম্প।

আইনি জটিলতা ও রাজ্য প্রশাসনের তীব্র প্রতিক্রিয়া

সংবিধান বিশেষজ্ঞদের মতে, ডোনাল্ড ট্রাম্প চাইলেই এক কলমের খোঁচায় বা নিছক কোনো এক্সিকিউটিভ অর্ডার জারি করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কোনো অঙ্গরাজ্যের নাম হুট করে বদলে ফেলতে পারেন না। কারণ, কোনো অঙ্গরাজ্যের নাম পরিবর্তনের ক্ষেত্রে দীর্ঘ ও জটিল সাংবিধানিক প্রক্রিয়া রয়েছে, যার জন্য সংশ্লিষ্ট রাজ্য সরকারের সরাসরি অনুমোদন ও অংশগ্রহণ বাধ্যতামূলক।

উল্লেখ্য, ট্রাম্পের এই নাম বদলের প্রবণতা নতুন নয়। এর আগে ২০২৫ সালের জানুয়ারি মাসে তিনি নির্দেশ দিয়েছিলেন যে, সরকারি নথিতে ‘গালফ অফ মেক্সিকো’-র পরিবর্তে ‘গালফ অফ আমেরিকা’ নাম ব্যবহার করতে হবে। যদিও মেক্সিকো সরকার নিজেদের মতো করে এখনও ‘গালফ অফ মেক্সিকো’ নামই ব্যবহার করে আসছে। এছাড়া ওবামা প্রশাসনের আমলে আলাস্কার ডেনালির নাম বদলে যা রাখা হয়েছিল, তা ফিরিয়ে এনে ফের ‘মাউন্ট ম্যাককিনলে’ করার উদ্যোগ নিয়েছিলেন ট্রাম্প। গত ২৭ আগস্ট ফেডারেল কাজের সুবিধার জন্য ‘লেক অন্টারিও’-র নাম বদলে ‘লেক আমেরিকা’ করার আইনি আদেশও তিনি সই করেন, যা নিয়ে কানাডার সঙ্গে মতপার্থক্য তৈরি হয়েছিল, কারণ কানাডা এখনও এটিকে লেক অন্টারিও বলেই ডেকে চলেছে।

তবে আগের বিষয়গুলি মূলত ভৌগোলিক নিসর্গ বা ফেডারেল এলাকার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলেও, ‘নিউ মেক্সিকো’ সরাসরি একটি সার্বভৌম মার্কিন অঙ্গরাজ্য হওয়ায় ট্রাম্পের এই পোস্টটি নিয়ে জল অনেকদূর গড়িয়েছে। ১৯১২ সালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ৪৭তম রাজ্য হিসেবে আত্মপ্রকাশ করার বহু আগে থেকেই এই অঞ্চলের নাম নিউ মেক্সিকো হিসেবে পরিচিত। ফলে ট্রাম্পের এই প্রস্তাবকে বিন্দুমাত্র পাত্তা দেয়নি রাজ্য প্রশাসন। নিউ মেক্সিকোর গভর্নর মিশেল লুজান গ্রিশাম স্পষ্টভাবে ট্রাম্পের এই ইঙ্গিত উড়িয়ে দিয়ে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন যে, তাঁদের রাজ্যের নাম কোনোভাবেই বিতর্কের বিষয় নয় এবং তা বদলানোর কোনো প্রশ্নই ওঠে না। আপাতত সোশ্যাল মিডিয়ার পাতায় ভাইরাল হওয়া এই ‘নিউ আমেরিকা’ নামটির কোনো আইনি বা বাস্তব ভিত্তি না থাকলেও, ট্রাম্পের এই কাণ্ড ফের একবার আন্তর্জাতিক মহলে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে চলে এসেছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *