রাজ্যের সব শিক্ষককে বাধ্যতামূলকভাবে করতে হবে রেজিস্ট্রেশন! ১৫ সেপ্টেম্বরের মধ্যে বড় নির্দেশিকা জারি

রাজ্যের স্কুল শিক্ষকদের জন্য এক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও বাধ্যতামূলক নির্দেশিকা জারি করল শিক্ষা দফতর। প্রথম শ্রেণি থেকে দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত পঠনপাঠনের সঙ্গে যুক্ত প্রতিটি শিক্ষককে এবার আবশ্যিকভাব ‘PM e-VIDYA’ অ্যাপ ও ডিজিটাল পোর্টালে রেজিস্ট্রেশন (PM e-VIDYA Registration) করতে হবে। আগামী ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬-এর মধ্যে রাজ্যের প্রতিটি জেলা ও এসআই (SI) অফিসকে নিজ নিজ এলাকার শিক্ষকদের এই রেজিস্ট্রেশনের সম্পূর্ণ তথ্য রিপোর্ট আকারে জমা দেওয়ার কড়া নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
কারা এবং কীভাবে করবেন এই রেজিস্ট্রেশন?
প্রাথমিক, উচ্চ প্রাথমিক, মাধ্যমিক এবং উচ্চ মাধ্যমিক—অর্থাৎ প্রথম থেকে দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত পড়ান এমন সমস্ত শিক্ষকই এই নতুন নিয়মের আওতায় পড়ছেন। ইতিমধ্যেই স্কুল স্তরে এসআই অফিসের মাধ্যমে এই সংক্রান্ত নির্দেশিকা পৌঁছে গিয়েছে। শুধু স্কুলেই শিক্ষক নন, পড়ুয়া ও অভিভাবকরাও চাইলে নিজেদের ‘User Role’ বেছে এই বিশেষ অ্যাপের সঙ্গে যুক্ত হতে পারবেন। এমনকি প্রাইভেট টিউটর বা অন্য শিক্ষাপ্রেমী ব্যক্তিরাও ‘Others’ ক্যাটাগরিতে নিজেদের নাম রেজিস্টার করতে পারবেন।
রেজিস্ট্রেশন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার জন্য প্রথমে গুগল প্লে-স্টোর (Google Play Store)-এ গিয়ে ‘PM eVidya’ বা ‘PM e-VIDYA’ লিখে সার্চ করতে হবে। সমনামের একাধিক অ্যাপ থাকতে পারে, তাই অ্যাপ ডাউনলোডের পূর্বে নিশ্চিত করতে হবে যে এর মূল পাবলিশার এনসিইআরটি (NCERT) কি না। অ্যাপ ইন্সটল করে খোলার পর ওয়েলকাম স্ক্রিন ও লার্নিং জার্নির নির্দেশ আসবে। সেখানে ‘Continue’ করার পর সঠিক ‘User Role’ হিসেবে শিক্ষকদের অবশ্যই ‘Teacher’ অপশনটি বেছে নিতে হবে। এরপর ‘Continue with Google’ অথবা অন্যান্য প্রয়োজনীয় তথ্য দিয়ে প্রোফাইল সম্পূর্ণ করতে হবে। ভুল ইউজার রোল সিলেক্ট করলে পরবর্তীতে তা পরিবর্তন করতে সমস্যা হতে পারে।
কাছাকাছি রাখতে হবে যে তথ্যগুলি
রেজিস্ট্রেশন শুরু করার আগে একটি সক্রিয় জিমেইল আইডি (Gmail ID), চালু মোবাইল নম্বর, স্কুলের পোশাকি নাম, জেলা এবং আপনি কোন কোন শ্রেণি ও বিষয় পড়ান সেই সমস্ত তথ্য হাতের কাছে প্রস্তুত রাখা দরকার। ওটিপি (OTP) আসার জন্য মোবাইল নম্বরটি সচল থাকা বাধ্যতামূলক।
অ্যাপের বিশেষ সুবিধাসমূহ
এই আধুনিক ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে শিক্ষার প্রসারে রয়েছে একাধিক উন্নত সুযোগ-সুবিধা। এর ‘Live Channels’-এর মাধ্যমে প্রথম থেকে দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত সম্পূর্ণ শ্রেণিভিত্তিক লাইভ ক্লাসের সুবিধা পাওয়া যাবে। পাশাপাশি, ‘State Content’-এ গিয়ে পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য এবং পছন্দের ভাষা সিলেক্ট করলেই এ রাজ্যের নিজস্ব সিলেবাস অনুযায়ী পঠনপাঠনের নানা ভিডিও ও স্টাডি মেটেরিয়াল মিলে যাবে। এই ডিজিটাল কন্টেন্টগুলি স্কুলের প্রজেক্টর বা স্মার্ট ক্লাসরুমেও অনায়াসে ব্যবহার করা সম্ভব। এছাড়া প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য ‘SATHEE’, উচ্চশিক্ষার জন্য ‘Swayam Prabha’ এবং ‘DIKSHA’ ও ‘SWAYAM’-এর সরাসরি লিঙ্কও এই অ্যাপে দেওয়া রয়েছে।
যদি রেজিস্ট্রেশনের সময় ওটিপি পেতে সমস্যা হয়, তবে কিছুক্ষণ অপেক্ষা করে ‘Resend’ অপশনে ক্লিক করা যাবে। কোনো কারণে প্রোফাইল সেভ না হলে প্লে-স্টোর থেকে অ্যাপটি আপডেট করে নিতে হবে। এছাড়া অন্য কোনো প্রযুক্তিগত জটিলতা দেখা দিলে প্রথমে স্কুলের প্রধান শিক্ষক এবং প্রয়োজন সাপেক্ষে সংশ্লিষ্ট এসআই (SI) অফিসে যোগাযোগ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
কেন্দ্রীয় শিক্ষা মন্ত্রকের ‘School Education and Literacy Department’-এর উদ্যোগে এই দেশব্যাপী কর্মসূচি রূপায়িত হচ্ছে, যেখানে প্রয়োজনীয় প্রযুক্তিগত সহায়তা প্রদান করছে এনসিইআরটি। বর্তমানে পশ্চিমবঙ্গে এই রেজিস্ট্রেশনের কাজ অত্যন্ত দ্রুতগতিতে এবং জোরকদমে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।