সোশ্যাল মিডিয়ায় মিথ্যা প্রচার? অজনার নদী সাফাই নিয়ে মুখোমুখি বিট্টু ও স্থানীয় কমিটি

মধ্যপ্রদেশের রাজগড় জেলার ব्याওরাতে অবস্থিত অজনার নদী পরিষ্কার করে ইন্টারনেটে রাতারাতি তারকা বনে গিয়েছিলেন ইউটিউবার ‘বিট্টু তबाহী’ ওরফে সুরেন্দ্র সিং চৌধুরী। তাঁর এই একক প্রচেষ্টার ভূয়সী প্রশংসা করেছিলেন শিল্পপতি আনন্দ মহিন্দ্রা থেকে শুরু করে খোদ মুখ্যমন্ত্রী ড. মোহন যাদব। এমনকি নেদারল্যান্ডসের বিখ্যাত সংস্থাও তাঁকে চাকরির অফার দেয়। কিন্তু এর মাঝেই সামনে এল এক চাঞ্চল্যকর তথ্য, যা গোটা ঘটনায় নতুন মোড় এনে দিয়েছে।
বিতর্কের সূত্রপাত কোথায়?
বিট্টু দাবি করেছিলেন যে, তিনি সম্পূর্ণ নিজের উদ্যোগে এবং একাই অজনার নদীর জঞ্জাল পরিষ্কার করেছেন। তাঁর ভিডিওগুলি সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়ার পর তাঁকে ‘আধুনিক ভারতের দশরথ মাঝি’ বলেও আখ্যা দেওয়া হয়। কিন্তু এর পরেই মুখ খুলেছেন ‘অজনার বাঁচাও সমিতি’ এবং স্থানীয় বাসিন্দারা।
তাদের অভিযোগ, অজনার নদী পরিষ্কার করার কাজ এক দিনের নয়। এটি কোনো একা ব্যক্তির কৃতিত্ব হতে পারে না। স্থানীয় প্রশাসন ও সামাজিক সংগঠনগুলির যৌথ উদ্যোগে ২০১৬ সাল থেকেই এই নদীতে নিয়মিত সাফাই অভিযান চালিয়ে আসছে। সমিতির দাবি, বিট্টু ওই দলের সঙ্গেই কাজ করতেন, কিন্তু সোশ্যাল মিডিয়ায় সমস্ত কৃতিত্ব একা নিজের কাঁধে তুলে নিয়েছেন।
কী বলছেন বিট্টু ও প্রশাসন?
এই সমস্ত অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে বিট্টু জানিয়েছেন যে, যখন বাকিরা কাজ করে চলে যেত, তখনও তিনি একা নদীর ময়লা পরিষ্কার করতেন। অন্যদিকে, নগর পালিকার সিএমও এবং স্থানীয় সমিতির সভাপতি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন যে, এত বড় নদী একা পরিষ্কার করা অসম্ভব। এটি বহু মানুষের দীর্ঘদিনের যৌথ পরিশ্রমের ফল।
সোশ্যাল মিডিয়ার লাইক, শেয়ার আর শোনার আড়ালে আসল সত্য কোনটা— একক প্রচেষ্টার নায়ক বিট্টু, নাকি বছরের পর বছর ধরে পরিশ্রম করা সেই সাধারণ মানুষ ও প্রশাসন? এই প্রশ্ন ঘিরেই এখন তোলপাড় মধ্যপ্রদেশ।