পরিবারে কারও মৃত্যু হলে আধার-প্যান কার্ডের কী হয়? ফেলে দেওয়ার আগে জানুন বড় নিয়ম!

ভারতবাসীর দৈনন্দিন জীবন থেকে শুরু করে আইনি বা আর্থিক লেনদেনে আধার কার্ড, প্যান কার্ড, ভোটার আইডি এবং পাসপোর্টের মতো গুরুত্বপূর্ণ নথিগুলির ভূমিকা অপরিসীম। কিন্তু অত্যন্ত সংবেদনশীল ও বাস্তব একটি প্রশ্ন অনেকেরই অজানা— পরিবারে কারও মৃত্যু হলে এই জরুরি পরিচয়পত্রগুলির ঠিক কী হয়? আইনি জটিলতা ও আর্থিক প্রতারণা এড়াতে পরিবারের সদস্যদের ঠিক কী পদক্ষেপ করা উচিত, তা জেনে নেওয়া অত্যন্ত জরুরি।

আধার কার্ডের নিয়ম

কারও মৃত্যুর পর আধার কার্ড সরাসরি বাতিল বা ‘সারেন্ডার’ করার জন্য আলাদা কোনো প্রচলিত সাধারণ প্রক্রিয়া নেই। তবে পৌরসভা বা গ্রাম পঞ্চায়েত থেকে মৃত্যুর শংসাপত্র সংগ্রহ করার পর জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধনের তথ্য আধার ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত হওয়ায় তা নিষ্ক্রিয় করার সুযোগ থাকে। এর ফলে মৃত ব্যক্তির আধার পরিচয় ব্যবহার করে কোনো ধরনের জালিয়াতি বা অপব্যবহারের আশঙ্কা অনেকটাই কমে যায়।

প্যান কার্ড সঙ্গে সঙ্গে বাতিল নয়

মৃত ব্যক্তির প্যান কার্ড পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই তা বাতিল করা উচিত নয়। কারণ মৃত ব্যক্তির ব্যাংক অ্যাকাউন্ট, বিনিয়োগ, আয়কর রিফান্ড বা সম্পত্তি সংক্রান্ত আর্থিক বিষয়গুলি সম্পূর্ণ নিষ্পত্তি করার জন্য প্যান কার্ডের প্রয়োজন হয়। সমস্ত আর্থিক ও আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর আইনগত উত্তরাধিকারীরা আয়কর বিভাগের কাছে প্যান কার্ড জমা দিয়ে তা নিষ্ক্রিয় করতে পারেন। ভবিষ্যতে আর্থিক জালিয়াতি এড়াতে এই প্রক্রিয়াটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

ভোটার কার্ড ও পাসপোর্টের কী নিয়ম?

মৃত ব্যক্তির ভোটার আইডি যাতে কেউ অসৎ উদ্দেশ্যে ব্যবহার করতে না পারে, সেজন্য ভোটার তালিকা থেকে তাঁর নাম বাদ দেওয়া বাধ্যতামূলক। এর জন্য স্থানীয় নির্বাচনী রেজিস্ট্রেশন আধিকারিকের কাছে মৃত্যুর শংসাপত্রসহ ‘ফর্ম ৭’ জমা দিতে হয়। যাচাইয়ের পর তাঁর নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়। অন্যদিকে, পাসপোর্টের নির্দিষ্ট মেয়াদ শেষ হলে তা এমনিতেই অকার্যকর হয়ে যায়, তাই আলাদা করে আবেদন করে পাসপোর্ট বাতিল করার প্রয়োজন হয় না। তবে পরিবারের উচিত মৃত ব্যক্তির পাসপোর্টটি অত্যন্ত নিরাপদে ও সতর্কতার সঙ্গে সংরক্ষণ করা।

সংক্ষেপে বলতে গেলে, প্রিয়জনের মৃত্যুর পর তাঁর পরিচয়পত্রগুলি ফেলে না দিয়ে নিয়মানুযায়ী সঠিক পদক্ষেপ করা এবং আর্থিক বিষয়গুলির নিষ্পত্তি হওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ ও বুদ্ধিমানার কাজ।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *