জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টার চিন সফরের পরেই বড় পদক্ষেপ! অরুণাচলে কোর কমান্ডার স্তরের বৈঠকে বড় সমাধানসূত্রের আশা

প্রকৃত নিয়ন্ত্রণ রেখা (LAC) বরাবর চলতে থাকা সীমান্ত সমস্যা স্থায়ীভাবে মেটাতে এবার এক ঐতিহাসিক পদক্ষেপে হাঁটছে ভারত ও চিন। লাদাখের গণ্ডি পেরিয়ে এই প্রথমবার পূর্বাঞ্চলে, অর্থাৎ অরুণাচল প্রদেশে দুই দেশের মধ্যে কোর কমান্ডার স্তরের বৈঠক অনুষ্ঠিত হতে চলেছে। অরুণাচলপ্রদেশের ওয়াচা-দামাই সীমান্ত মিটিং পয়েন্টে এই উচ্চপর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হচ্ছে। ভারতীয় ভূখণ্ডের ওয়াচা বর্ডার মিটিং পয়েন্টে আয়োজিত এই বৈঠকে ভারতীয় সেনার পক্ষে নেতৃত্ব দিচ্ছেন ৩ কোরের কমান্ডার লেফটেন্যান্ট জেনারেল গিরিশ কালিয়া।

অরুণাচলে তৎপরতা ও ভারতীয় সেনার কড়া অবস্থান

জানা গেছে, অরুণাচলপ্রদেশে চিনের সঙ্গে প্রকৃত নিয়ন্ত্রণ রেখা বরাবর নজরদারি ও সুরক্ষার দায়িত্বে রয়েছে ভারতীয় সেনার দুটি প্রধান কোর—তেজপুর-ভিত্তিক ৪ কোর এবং রাঙ্গাপাহাড়-ভিত্তিক ৩ কোর। ওই সীমান্ত এলাকায় চিনা সেনার যেকোনো ধরনের আগ্রাসী বা উস্কানিমূলক কার্যকলাপের মোকাবিলায় অত্যন্ত কড়া ও প্রস্তুত অবস্থান নিয়েছে ভারতীয় সেনা। মূলত প্রকৃত নিয়ন্ত্রণ রেখা নিয়ে ভারত ও চিনের ধারণাগত পার্থক্যের কারণেই মাঝে মাঝে সীমান্তে উত্তেজনার পরিস্থিতি তৈরি হয়, যা নিরসনেই এই আলোচনা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।

গালওয়ান পরবর্তী পরিস্থিতির পটভূমি

উল্লেখ্য, ২০২০ সালে লাদাখের গালওয়ান উপত্যকায় রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের পর থেকে এতদিন পর্যন্ত ভারত ও চিনের মধ্যে কোর কমান্ডার স্তরের সমস্ত বৈঠক শুধুমাত্র লাদাখ সেক্টরের চুসুল-মোলদো সীমান্ত পয়েন্টেই সীমাবদ্ধ ছিল। গালওয়ানের সেই সংঘর্ষে দুই দেশেরই বহু সেনা হতাহত হয়েছিলেন।

সাম্প্রতিক জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত ডোভালের সফল চিন সফরের ঠিক পরপরই এই বৈঠকটি অত্যন্ত গুরুত্ব বহন করছে। ওই সফরের পর দুই দেশই সীমান্তে শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে যৌথভাবে একাধিক ইতিবাচক পদক্ষেপের কথা ঘোষণা করেছিল। সম্প্রতি সেনাপ্রধান জেনারেল ধীরাজ শেঠ ৩ কোরের সদর দফতর পরিদর্শন করে সেখানকার অপারেশনাল প্রস্তুতি এবং যুদ্ধকালীন ক্ষমতা বৃদ্ধির দিকগুলো খতিয়ে দেখেছিলেন। গালওয়ান সংকটের সময় পূর্ব লাদাখ সেক্টরে চিন একতরফাভাবে এলএসি (LAC) পরিবর্তনের চেষ্টা চালালে ভারত যেভাবে বিপুল সংখ্যক সেনা ও আধুনিক যুদ্ধাস্ত্র মোতায়েন করে কড়া জবাব দিয়েছিল, বর্তমানের এই কূটনৈতিক ও সামরিক বৈঠক তারই পরবর্তী কৌশলগত ধাপ বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *