অবসরকালীন তহবিলে টান পড়তে পারে! ২৮ ডিসেম্বরের মধ্যে এই কাজটি না করলে বড় ক্ষতির মুখে পড়তে পারেন কর্মীরা

সাধারণত একজন বেতনভোগী কর্মীর মূল বেতনের ১২ শতাংশ কেটে প্রভিডেন্ট ফান্ড বা পিএফ-এ জমা করা হয়। এর সঙ্গে কোম্পানিও সমপরিমাণ অর্থ প্রদান করে, যার একটি অংশ যায় ইপিএফ এবং বাকি অংশ যায় ইপিএস বা পেনশন সিস্টেমে। বার্ধক্যে অবসরকালীন এই অর্থই একজন মানুষের সবচেয়ে বড় আর্থিক অবলম্বন। আর তাই অ্যাকাউন্টধারীদের স্বার্থ সুরক্ষিত রাখতে প্রায়ই নতুন নিয়মকানুন নিয়ে আসে এমপ্লয়িজ প্রভিডেন্ট ফান্ড অর্গানাইজেশন (ইপিএফও)। এবার পিএফ ট্রাস্টগুলির জন্য একটি বিশেষ উদ্যোগ চালু করেছে তারা, যা সরাসরি প্রভাবিত করবে লক্ষ লক্ষ কর্মীকে।
কী এই ‘এককালীন ক্ষমা প্রকল্প’?
চলতি বছরের জুনে নির্বাচিত কিছু পিএফ ট্রাস্টের জন্য একটি ‘এককালীন ক্ষমা প্রকল্প’ চালু করেছে ইপিএফও। অনেক কোম্পানি তাদের কর্মচারীদের পিএফ সরাসরি ইপিএফও-তে জমা না দিয়ে নিজেদের নির্দিষ্ট ট্রাস্টের মাধ্যমে পরিচালনা করে। এর জন্য তাদের ইপিএফ আইনের অধীনে বিশেষ ছাড়পত্র নিতে হয়। কিন্তু কিছু কোম্পানি আয়কর বিভাগ থেকে স্বীকৃতি পেলেও ইপিএফও-র নিয়ম অনুযায়ী আনুষ্ঠানিক ছাড়পত্র পায়নি, অথচ কর সুবিধা ভোগ করছিল। এই নিয়ন্ত্রক ত্রুটি বা আইনি জটিলতা কাটাতে এবং ট্রাস্টগুলোর কাগজপত্র উন্নত করার সুযোগ দিতেই এই ক্ষমা প্রকল্প আনা হয়েছে।
আবেদনের শেষ সময়সীমা ২৮ ডিসেম্বর
এই সুবিধার জন্য একটি নির্দিষ্ট সময়সীমা বেঁধে দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। যোগ্য পিএফ ট্রাস্টগুলোকে তাদের স্ট্যাটাস নিয়মিত বা বৈধ করার জন্য আগামী ২০২৬ সালের ২৮ ডিসেম্বর পর্যন্ত সময় দেওয়া হয়েছে। যেসব ট্রাস্ট দীর্ঘদিন ধরে প্রযুক্তিগত জটিলতায় আটকে ছিল, তাদের জন্য এটি একটি বড় স্বস্তি। নিয়ম অনুযায়ী, এই ধরনের ট্রাস্টগুলোকে কর্মচারীদের অন্ততপক্ষে সেই একই সুবিধা প্রদান করতে হবে, যা সরাসরি ইপিএফও-র অধীনে দেওয়া হয়। পাশাপাশি বিনিয়োগের নিয়ম ও সঠিক হিসাবরক্ষণ কঠোরভাবে মেনে চলতে হবে।
কর্মচারীদের তহবিলের উপর এর কী প্রভাব পড়বে?
পিএফ ট্রাস্ট কেবল কিছু কাগজপত্রের বিষয় নয়, এর সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে লক্ষ লক্ষ কর্মচারীর সারাজীবনের কষ্টার্জিত সঞ্চয়। ট্রাস্টের সঠিক হিসাবরক্ষণ এবং নিয়ন্ত্রক অবস্থা কর্মচারীদের সুবিধার সঙ্গে সরাসরি যুক্ত। যদি ট্রাস্টগুলি সঠিকভাবে কাজ করে, তবে সাধারণ কর্মচারীদের তহবিল আরও বেশি সুরক্ষিত থাকবে। এই ক্ষমা প্রকল্পের মাধ্যমে ইপিএফও মূলত নিশ্চিত করতে চাইছে যেন ব্যক্তিগত ট্রাস্টের মাধ্যমে কেটে নেওয়া পিএফ-এর ক্ষেত্রেও কর্মীরা সরকারি ব্যবস্থার মতো সম্পূর্ণ সুরক্ষা পান।