৩ বছর আগের অভিযোগে তোলপাড় রাজ্য রাজনীতি! ক্যানিং পশ্চিমের বিধায়কের বিরুদ্ধে ধর্ষণের মামলা রুজু হতেই শোরগোল

প্লট করে সরকারি জমি বিক্রি থেকে মাতলা নদীর চর জবরদখল করে বৃদ্ধাশ্রম তৈরি— ভুরি ভুরি অভিযোগ আগেই উঠেছিল ক্যানিং পশ্চিমের তৃণমূল বিধায়ক পরেশরাম দাসের বিরুদ্ধে। তবে এবার তাঁর বিরুদ্ধে উঠল আরও মারাত্মক ও চাঞ্চল্যকর অভিযোগ। এক মহিলার করা ধর্ষণের অভিযোগে মামলা রুজু করে ইতিমধ্যেই তদন্ত শুরু করেছে ক্যানিং থানা। এই ঘটনায় রাজনৈতিক মহলে তীব্র শোরগোল শুরু হয়েছে।
টাকা নিয়ে ধর্ষণের অভিযোগ
নির্যাতিতা মহিলার অভিযোগ, ২০২৩ সালের পঞ্চায়েত নির্বাচনের আগে তাঁর স্বামীকে টিকিট পাইয়ে দেওয়ার কথা বলে ৪ লক্ষ টাকা দাবি করেছিলেন বিধায়ক পরেশরাম দাস। মহিলার দাবি, স্বামীর কথামতো সেই টাকা পৌঁছে দিতে তিনি বিধায়কের তৈরি করা বৃদ্ধাশ্রমে গেলে শারীরিক হেনস্থার শিকার হন। অভিযোগ, টাকা হাতিয়ে নেওয়ার পর তাঁকে ঘরের মধ্যে আটকে রেখে ধর্ষণ করেন ক্যানিং পশ্চিমের বিধায়ক। শুধু তাই নয়, সেই সময় পুলিশের কাছে নালিশ জানাতে গেলেও তখন তৃণমূলের প্রভাবে এফআইআর (FIR) দায়ের করা হয়নি বলে দাবি নির্যাতিতার।
বোমাবাজি ও ৩ বছরের ঘরছাড়া থাকার অভিযোগ
পরিবারের আরও দাবি, মহিলা পুলিশে অভিযোগ জানাতে যাওয়ায় দলবল নিয়ে তাঁর বাড়িতে চড়াও হন স্বয়ং বিধায়ক পরেশরাম দাস। তাঁর নেতৃত্বেই বাড়িতে বোমাবাজি চালানো হয় বলে অভিযোগ। আতঙ্কে গত তিন বছর ধরে পরিবার নিয়ে ঘরছাড়া ছিলেন ওই মহিলা। সম্প্রতি রাজনৈতিক পালাবদলের পর ফের পুলিশের দ্বারস্থ হন নির্যাতিতা এবং গত বুধবার ক্যানিংয়ের এসডিপিও (SDPO)-র কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই ক্যানিং থানা ধর্ষণের মামলা রুজু করে তদন্ত শুরু করেছে।
কী বলছেন অভিযুক্ত?
অন্যদিকে, নিজের বিরুদ্ধে ওঠা সমস্ত অভিযোগ সম্পূর্ণ উড়িয়ে দিয়েছেন অভিযুক্ত বিধায়ক পরেশরাম দাস। তাঁর দাবি, রাজনৈতিকভাবে তাঁকে হেয় করতে এবং মিথ্যে অভিযোগে কলঙ্কিত করার জন্য এটি একটি সুপরিকল্পিত চক্রান্ত। পুরো ঘটনা নিয়ে রাজ্যের বিরোধী দলগুলোও শাসকদলকে তীব্র আক্রমণ শানিয়েছে।