পরের বছর ক্লাসে আর থাকতে পারব কি না জানি না! শিক্ষক দিবসের দিনেই একরাশ বিষণ্ণতা শিক্ষকদের মনে।

শিক্ষক দিবস মানেই প্রিয় শিক্ষককে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা, আর ছাত্র-ছাত্রীদের হাসি-আনন্দে মুখরিত হয়ে ওঠা স্কুল চত্বর। কিন্তু ২০২৬ সালের শিক্ষক দিবসে আনন্দ বা উদযাপনের চেয়ে অনেক বেশি গাঢ় হয়ে উঠেছে একরাশ বিষণ্ণতা ও অনিশ্চয়তা। ২০১৬ সালের শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়ায় দুর্নীতির অভিযোগে চাকরি হারিয়ে বর্তমানে চরম মানসিক টানাপোড়েনের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন বহু যোগ্য শিক্ষক। আগামী দিনে তাঁরা আদৌ এই স্কুলে পড়ুয়াদের পাশে থাকতে পারবেন কি না, সেই প্রশ্নই এখন তাঁদের তাড়িয়ে বেড়াচ্ছে।

আশ্বাসেও কাটছে না ধোঁয়াশা

যোগ্য চাকরিহারা শিক্ষকদের একাংশের বক্তব্য, আইনি লড়াই এবং নতুন করে নিয়োগের সুযোগ আসলেও বর্তমান পরিস্থিতির জেরে তাঁরা গভীর আতঙ্কে রয়েছেন। আগামী ৮ সেপ্টেম্বর কিউরেটিভ পিটিশন তালিকাভুক্ত হওয়ার কথা রয়েছে। তার আগে সরকারের দ্রুত ও সুনির্দিষ্ট আইনি পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন তাঁরা। শিক্ষকদের সাফ কথা, দুর্নীতির সঙ্গে যুক্ত নন এমন যোগ্যদের আলাদা করে চিহ্নিত করে সুপ্রিম কোর্টে যাওয়া হোক, যাতে নিরপরাধ শিক্ষকদের অকারণে বলি হতে না হয়।

নৈতিকতা বনাম বঞ্চনার যন্ত্রণা

শিক্ষকদের দাবি, কোনো অপরাধ না করেও তাঁদের এই পরিণতি ভোগ করতে হচ্ছে। প্রতিদিন নতুন নতুন আইনি জটিলতা ও মামলার গেরোয় তাঁদের পারিবারিক জীবন এবং সন্তানদের পড়াশোনাও বিপর্যস্ত। ছাত্র-ছাত্রীদের সামনে দাঁড়িয়ে সততা ও নৈতিকতার পাঠ দিতে গিয়ে আজ নিজেদের অস্তিত্ব নিয়েই প্রশ্নচিহ্নের মুখে পড়তে হচ্ছে তাঁদের। ফুল, উপহার আর শুভেচ্ছার আড়ালে এবারের শিক্ষক দিবস তাই হয়ে উঠেছে বঞ্চনা, লজ্জা এবং একরাশ অসহায়তার প্রতীক।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *