রোহিত-কোহলিদের কপাল খুলছে! ক্রিকেটের রোমাঞ্চ দ্বিগুণ করতে বড়সড় মাস্টারপ্ল্যান আনছে বিসিসিআই।

আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের পুরোনো সোনালী দিনগুলি কি তবে সত্যিই ফিরে আসছে? গত বেশ কিছুদিন ধরেই দ্বিপক্ষীয় বা বাইলেটারাল সিরিজের একঘেয়েমি কাটাতে এবং বিশেষ করে ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটের আকর্ষণ বাড়াতে বড়সড় পরিবর্তনের দাবি উঠছিল বিশ্বজুড়ে। আর এবার সেই দাবিতে সিলমোহর পড়তে চলেছে বলেই জোরালো জল্পনা শুরু হয়েছে। ক্রিকবজের একটি রিপোর্ট অনুযায়ী, আগামী নতুন ‘ফিউচার ট্যুর প্রোগ্রাম’ (FTP)-এ দ্বিপক্ষীয় সিরিজের বদলে বহুপক্ষীয় বা মাল্টিলেটারাল সিরিজকে বেশি প্রাধান্য দেওয়ার পরিকল্পনা করছে বিশ্বের প্রভাবশালী ক্রিকেট বোর্ডগুলি, যার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড (BCCI)।
আইসিসির ওয়ার্কশপে হতে চলেছে বড় সিদ্ধান্ত
চলতি মাসের ২২ এবং ২৩ সেপ্টেম্বর দুবাইয়ে আইসিসি-র একটি বিশেষ এফটিপি ওয়ার্কশপ অনুষ্ঠিত হতে চলেছে। যেখানে সমস্ত ফুল মেম্বার ক্রিকেট বোর্ডের ক্রিকেট অপারেশনস টিম অংশ নেবে। বিশ্বের অন্যতম শক্তিশালী ও ধনী ক্রিকেট বোর্ড হিসেবে এই বিষয়ে বিসিসিআই-এর মতামত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হতে চলেছে। যদি বিসিসিআই এই প্রস্তাবকে পূর্ণ সমর্থন জানায়, তবে ২০২৭ থেকে ২০৩১ সালের এফটিপি সাইকেলে পুরোনো দিনের সেই জনপ্রিয় ট্রাইংগুলার (ত্রিদেশীয়) বা কুয়াড্রাংগুলার (চার দেশীয়) সিরিজগুলি ফের মাঠে গড়াতে পারে।
কেন এই পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত?
বর্তমানে ভারতসহ বিভিন্ন দেশের দলগুলি সারা বছর ধরে ঠাসা সূচির মধ্যে ক্রিকেট খেলে থাকে। এর মধ্যে আইপিএল এবং বিভিন্ন দ্বিপক্ষীয় সিরিজও অন্তর্ভুক্ত। কিন্তু দীর্ঘ মেয়াদে অনেক সময় কম গুরুত্বপূর্ণ দেশগুলির সঙ্গে সাধারণ দ্বিপক্ষীয় সিরিজে দর্শকদের উৎসাহ কমতে দেখা যায়। ফলে ক্রিকেটের টানটান উত্তেজনা ফিরিয়ে আনতে ত্রিদেশীয় বা বহুপক্ষীয় সিরিজের বিকল্প দেখছেন কর্তারা।
উল্লেখ্য, ভারত শেষবার ২০১৮ সালে নিদাহাস ট্রফির আকারে একটি ত্রিদেশীয় টি-টোয়েন্টি সিরিজ খেলেছিল। অন্যদিকে, ওয়ানডে ফরম্যাটে ভারত শেষবার এই ধরণের সিরিজ খেলেছিল ২০১৪-১৫ মরশুমে। এমনকি ২০০৩-০৪ সালের পর থেকে বিসিসিআই ঘরের মাঠে কোনো ত্রিদেশীয় সিরিজের আয়োজন করেনি। এখন দেখার বিষয়, আগামী দিনে এই পরিকল্পনা বাস্তবে রূপ নিলে ক্রিকেটপ্রেমীরা ফের সেই পুরোনো নস্ট্যালজিক লড়াই দেখতে পান কি না।