‘নারীদের বস্তুরূপে দেখা হয়!’ কুরুচিকর লিরিক্স আর পুরুষতান্ত্রিক মানসিকতা নিয়ে বোমা ফাটালেন সুর সম্রাজ্ঞী!

বলিউডের একের পর এক সুপারহিট গান যখন কোটি কোটি মানুষের মুখে মুখে ঘোরে, তখন তার মধ্যে লুকিয়ে থাকা কিছু শব্দ বা পংক্তি নারীর সম্মান ও মর্যাদা নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন তুলে দেয়। এই ধরনের কুরুচিকর বা আপত্তিকর শব্দ সংবলিত বহু হিট গানের প্রস্তাব স্রেফ ফিরিয়ে দিয়েছেন সুর সম্রাজ্ঞী শ্রেয়া ঘোষাল। সম্প্রতি এক পডকাস্ট সাক্ষাৎকারে মুখ খুলে জনপ্রিয় এই প্লেব্যাক গায়িকা স্পষ্ট জানিয়েছেন, সংগীত জগতের এই সমস্যাটি কেবল কয়েকটি বিতর্কিত লাইনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, বরং এটি পুরো মিউজিক ইন্ডাস্ট্রির গভীরে লুকিয়ে থাকা ‘পুরুষতান্ত্রিক’ মানসিকতারই বহিঃপ্রকাশ।

কী বললেন শ্রেয়া ঘোষাল? ‘দ্য মেল ফেমিনিস্ট পডকাস্ট’-এ আপত্তিকর লিরিক্স ও গান বাতিল করা প্রসঙ্গে খোলামেলা আলোচনা করেন শ্রেয়া। তিনি জানান, গানের লিরিক্সের পাশাপাশি সুর এবং গাওয়ার ধরনটাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এমন অনেক গান অতীতে সুপারহিট হয়েছে, যেগুলির প্রস্তাব তিনি শুরুতেই ফিরিয়ে দিয়েছিলেন। ভাগ্যবশত এখন এই ধরনের গানের সংখ্যা কিছুটা কমলেও, একটা সময় চলচ্চিত্রে মহিলা গায়িকাদের জন্য বিশেষ কিছু নির্দিষ্ট ঘরানার গানই বরাদ্দ ছিল। বাকি সমস্ত গান গেয়ে যেতেন পুরুষ গায়িকারা, আর মাঝে দু-একটা রোমান্টিক ডুয়েট থাকত।

ইন্ডাস্ট্রির পুরুষতান্ত্রিক মানসিকতা: শিল্পের বৈষম্যের মূল শিকড়ের দিকে আঙুল তুলে গায়িকা আরও বলেন, এই সংকট কেবল গায়িকাদের একার নয়, বরং অভিনেত্রী থেকে শুরু করে বিনোদন জগতের সঙ্গে যুক্ত প্রতিটি নারীর। এটি পুরুষতান্ত্রিক ও লিঙ্গভিত্তিক দৃষ্টিভঙ্গিরই ফল। তবে স্বাধীন সংগীত বা ইন্ডিপেন্ডেন্ট মিউজিকের উত্থানের কারণে ধীরে ধীরে পরিস্থিতির পরিবর্তন ঘটছে বলে আশাপ্রকাশ করেছেন তিনি।

‘চিকনি চামেলি’ ও নিজের অনুশোচনা: এর আগে লিলি সিং-এর সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে শ্রেয়া স্বীকার করেছিলেন যে, কেরিয়ারের শুরুর দিকে তিনি ‘চিকনি চামেলি’-র মতো কিছু চটুল ও খোলামেলা গান গেয়েছিলেন। কিন্তু বর্তমান সময়ে দাঁড়িয়ে তিনি আর কখনওই এই ধরনের গান গাইবেন না। নিজের অনুশোচনার কথা জানিয়ে গায়িকা বলেন, কোনো গান সেন্সুয়াল হওয়া আর তাতে স্পষ্টভাবে নারীকে বস্তুরূপে উপস্থাপন (Objectification) করার মধ্যে খুব সূক্ষ্ম ফারাক রয়েছে। পাঁচ-ছায়ী বছরের ছোট ছোট মেয়েরা যখন লিরিক্সের মানে না বুঝেই সেই গান গেয়ে তাঁকে শোনায়, তখন তাঁর ভীষণ লজ্জা ও অস্বস্তি হয়— কারণ ওইটুকু শিশুর মুখে এমন কথা একেবারেই বেমানান।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *