‘আমি তাকে চিনিই না!’ জন্তর-মান্তরে মারধরের ঘটনায় নাম জড়াতেই মুখ খুললেন চিরাগ পাসোয়ান

দিল্লির জন্তর-মান্তরে বিক্ষোভ প্রদর্শনের সময় নিশু আজাদের বাবা সঞ্জয় আজাদের ওপর হামলার ঘটনায় উত্তাল রাজনৈতিক মহল। এই মামলার মূল অভিযুক্ত স্বাধীন ভরদ্বাজকে উত্তরপ্রদেশের বুলন্দশহর থেকে হেফাজতে নিয়েছে দিল্লি পুলিশ। তবে বিতর্কের সূত্রপাত হয় তখন, যখন অভিযুক্ত স্বাধীন একটি পডকাস্ট বা ভিডিওয় দাবি করে যে সে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী চি সহ বেশ কয়েকজন প্রভাবশালী নেতার ঘনিষ্ঠ।
এই প্রসঙ্গে এবার মুখ খুলেছেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী চিরাগ পাসোয়ান। তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন যে, অভিযুক্ত স্বাধীন ভরদ্বাজকে তিনি ব্যক্তিগতভাবে চেনেন না এবং তাঁর নাম বা পরিচয়ের অপব্যবহার করার অভিযোগে তিনি ইতিমধ্যে ওই ব্যক্তির বিরুদ্ধে পুলিশে অভিযোগ দায়ের করেছেন।
কী বলেছেন চিরাগ পাসোয়ান? সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে চিরাগ পাসোয়ান ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “যেভাবে একজন ব্যক্তি প্রকাশ্যে দাবি করছে যে সে কাউকে এমনভাবে মেরেছে যাতে তার মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারত, তারপরেও যদি কঠোর আইনি পদক্ষেপ না নেওয়া হয়, তবে সমাজের কাছে খুব ভুল বার্তা যাবে। ওই ব্যক্তি আমার নাম জড়িয়েছে, তাই আমি তার বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দিয়েছি। রাজনৈতিক জীবনে ভক্ত বা সাধারণ মানুষ দেখা করতেই পারেন, তাই বলে কেউ যদি দাবি করে সে আমাকে ব্যক্তিগতভাবে জানে, তবে তা সম্পূর্ণ মিথ্যা। নামের এমন অপব্যবহার বরদাশত করা যায় না।” একইসঙ্গে তিনি দিল্লি পুলিশকে এই ঘটনার সুক্ষ্ম ও নিরপেক্ষ তদন্ত করার আহ্বান জানিয়েছেন।
কী ঘটেছিল জন্তর-মান্তরে? গত ২৩ জুন প্রশ্নপত্র ফাঁসের (Paper Leak) প্রতিবাদে জন্তর-মান্তরে ‘কাকরোচ জনতা পার্টি’র পক্ষ থেকে একটি বিক্ষোভ কর্মসূচি পালিত হয়েছিল। সেই সময়ই প্রতিবাদ চলাকালীন সঞ্জয় আজাদ নামের এক ব্যক্তি নিজের ফোনে ভিডিও রেকর্ড করার সময় তাঁর ওপর চড়াও হয় হামলাকারীরা। অভিযোগ ওঠে, স্বাধীন ভরদ্বাজ ও তার সঙ্গীরা সঞ্জয় আজাদের মাথায় শক্ত কোনো বস্তু দিয়ে আঘাত করে। পরবর্তীতে ঘটনার ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পর এবং রাজনৈতিক চাপ বৃদ্ধি পাওয়ার পর পুলিশ এসসি-এসটি (SC-ST) আইনে অভিযুক্ত স্বাধীনকে গ্রেফতার করে। বর্তমানে ভুক্তভোগী পরিবারকে ন্যায়বিচার পাইয়ে দেওয়ার জন্য রাজনৈতিক স্তরেও চাপ তৈরি হয়েছে।