চালকহীন সাইবারক্যাব আনতেই কড়া বিপাকে ইলন মাস্ক! তদন্ত শুরু করল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র

দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে চালকহীন রোবোট্যাক্সি সার্ভিসের জন্য বহুল আলোচিত ‘সাইবারক্যাব’ (Cybercab) বাজারে আনল টেসলা (Tesla)। ইলন মাস্কের ভবিষ্যতের এই futuristic ভিশনকে বাস্তবে রূপ দেওয়ার পথে এটি বড় পদক্ষেপ হলেও, লঞ্চের রেশ কাটতে না কাটতেই মার্কিন অটোমোবাইল নিয়ন্ত্রক সংস্থার কড়া নজরদারির মুখে পড়ল সংস্থাটি।

অস্টিনে এক গোপনীয় ও অনাড়ম্বর আয়োজনের মাধ্যমে গাড়িটি প্রকাশ্যে আনা হয়। যেখানে কোনও লাইভস্ট্রিম বা মিডিয়ার প্রবেশাধিকার রাখা হয়নি। তবে টেসলার নিজস্ব পেজে সাইবারক্যাব সংক্রান্ত তথ্য প্রকাশ করা হয় এবং শুক্রবার সন্ধ্যা থেকে জনসাধারণের জন্য রাইড চালুর ঘোষণা করা হয়। বিনিয়োগকারীদের দীর্ঘদিনের কৌতূহল ছিল—রোবোট্যাক্সি কি আদতে লাভজনক কোনো ব্যবসা হয়ে উঠতে পারবে এবং এর পরিসর কতটা দ্রুত বাড়াবে? সেই জল্পনার মাঝেই এই আত্মপ্রকাশ বড় মাত্রা পেল।

ফেডারাল তদন্তের মুখে সাইবারক্যাব

তবে এই আত্মপ্রকাশের পথ একেবারেই মসৃণ নয়। গাড়িটি বাজারে আসার পরেই ইউএস ন্যাশনাল হাইওয়ে ট্রাফিক সেফটি অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (NHTSA) একটি তদন্ত শুরু করেছে। ফেডারাল সুরক্ষা মানদণ্ড মেনে টেসলা যেভাবে এই গাড়িগুলিকে স্ব-প্রত্যয়িত (self-certified) করেছে, তার ‘প্রক্রিয়া এবং প্রযুক্তিগত ডেটা’ খতিয়ে দেখছে মার্কিন নিয়ন্ত্রক সংস্থা। এই অডিট কোয়ারের আওতায় প্রায় ১,০০০ টি গাড়ি রয়েছে বলে সংস্থার ওয়েবসাইটে প্রকাশিত নথিতে জানানো হয়েছে।

সবচেয়ে বড় প্রশ্ন তৈরি হয়েছে গাড়িটির নকশা নিয়ে। প্রথাগত ড্রাইভার কন্ট্রোল বা চালক নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা না থাকায় গাড়ির অনুমোদন নিয়ে ইতিমধ্যেই প্রশ্ন উঠছে। দুই আসনের এই সাইবারক্যাবে কোনও স্টিয়ারিং হুইল, রিয়ার-ভিউ মিরর বা ফুড পেডেল নেই। মার্কিন ফেডারাল নিয়ম অনুযায়ী সাধারণত সব গাড়িতেই ব্রেক পেডেল বা সাইড মিররের মতো মানব-কেন্দ্রিক বেশ কিছু ডিজাইনের ফিচার থাকা বাধ্যতামূলক। জুক্স (Zoox)-এর মতো অন্যান্য সংস্থা যেখানে বাণিজ্যিক ব্যবহারের জন্য বিশেষ ছাড়পত্র নিয়েছে, সেখানে টেসলা নিজের মতো করে সেলফ-সার্টিফাই করার পথ বেছে নেওয়ায় বিপত্তি বেড়েছে।

ওয়াল স্ট্রিটে হতাশা ও শেয়ারে পতন

লঞ্চের ইভেন্টটি বিশদ তথ্যের অভাবে কিছুটা মলিন হয়েছে বলেই মত বিশ্লেষকদের। ওয়াল স্ট্রিটের একাংশ সরাসরি কমিউনিকেশন না থাকায় এবং গ্রোথ টার্গেটের বিষয়ে স্পষ্ট রূপরেখা না পাওয়ায় হতাশা প্রকাশ করেছে। এর জেরে গত শুক্রবার নিউ ইয়র্কে টেসলার শেয়ারের দাম ৪.৬ শতাংশ পর্যন্ত পতন দেখেছে, যা গত ছয় সপ্তাহের মধ্যে সবচেয়ে বড় ইন্ট্রাডে পতন।

মূলত অটোমোবাইল ম্যানুফ্যাকচারিং বিজনেসে স্থবিরতা কাটানোর জন্য নতুন কোনো বড় কিছুর অপেক্ষায় ছিলেন টেসলার বিনিয়োগকারীরা। ইভি নির্মাতা থেকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) পণ্য উৎপাদনে রূপান্তরের এই যাত্রায় সাইবারক্যাব কতটা সফল হয় এবং মার্কিন নিয়ন্ত্রক সংস্থার এই তদন্ত টেসলার বড় পরিকল্পনাকে কতটা পিছিয়ে দেয়, এখন সেটাই দেখার বিষয়।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *