১৩ কোটি নাম কাটা নিয়ে তুলকালাম! আইনি বৈধতা থাকলেও এটি কি আদৌ ন্যায়সঙ্গত? প্রশ্ন তুললেন অশোক লাভাসা

নির্বাচন কমিশনের চলমান বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা ‘স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন’ (SIR) প্রক্রিয়ার বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন না তুললেও এর ন্যায়সংগত দিকটি নিয়ে তীব্র আপত্তি জানালেন ভারতের প্রাক্তন নির্বাচন কমিশনার অশোক লাভাসা। তাঁর স্পষ্ট বক্তব্য, কোনো সরকারি পদক্ষেপ আইনগতভাবে সঠিক হতে পারে, কিন্তু কোটি কোটি নাগরিকের ক্ষেত্রে তা যদি অন্যায় বা বৈষম্যমূলক হয়, তবে তাকে প্রকৃত ন্যায়বিচার বলা যায় না।

‘আইনগত বৈধতা মানেই ন্যায়বিচার নয়’

নয়াদিল্লিতে আয়োজিত অ্যাসোসিয়েশন ফর ডেমোক্রেটিক রিফর্মস (ADR)-এর জগদীপ সিং ছোকার মেমোরিয়াল লেকচারে বক্তব্য রাখতে গিয়ে অশোক লাভাসা এই মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, বর্তমানে সাংবিধানিক ও সংবিধিবদ্ধ প্রতিষ্ঠানগুলির একটা প্রবণতা তৈরি হয়েছে যে, আইনিভাবে যা সিদ্ধ, সেটাই সঠিক। কিন্তু আইনের অক্ষর পালনের পাশাপাশি তার মূল ‘আত্মা’ বা ন্যায়বোধকে রক্ষা করাও সমানভাবে জরুরি।

১৩ কোটি নাম বাদ পড়া নিয়ে প্রশ্ন

ভোটার তালিকা থেকে প্রায় ১৩ কোটি নাম বাদ দেওয়ার যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে লাভাসা বলেন, এই ধরনের বিশাল পরিবর্তন সাধারণ মানুষকে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া থেকে দূরে সরিয়ে দিতে পারে। এমনিতেই দেশের প্রায় ৩৩ শতাংশ মানুষ ভোটদান থেকে বিরত থাকেন, এই ধরনের ব্যাপক কাটছাঁট নাগরিকদের মধ্যে নির্বাচন ব্যবস্থার প্রতি অনাস্থা তৈরি করতে পারে।

  • আইন বনাম ন্যায়: বিচার বিভাগ বা সরকার হয়তো এই প্রক্রিয়াটিকে আইনি ছাড়পত্র দিয়েছে, কিন্তু সাধারণ মানুষের কাছে এটি কতটা সুবিচারমূলক, সেটাই আসল প্রশ্ন।

  • রাজনৈতিক বিতর্ক: এর আগে নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছিল যে, তালিকা সংশোধনের সময় বাংলাদেশ, নেপাল ও মায়ানমারের বহু অবৈধ নাগরিকের নাম সামনে এসেছে। যদিও এর সপক্ষে সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য বা পরিসংখ্যান প্রকাশ না করায় বিরোধী দলগুলির নিশানায় পড়েছে কমিশন।

প্রাক্তন নির্বাচন কমিশনারের এই মন্তব্য দেশের নির্বাচনী রাজনীতি এবং প্রশাসনিক স্বচ্ছতা নিয়ে এক নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *