শিক্ষিত নারীদেরও কি বলে দিতে হবে তারা কোথায় দাঁড়াবে? কেরলের সমাজ নিয়ে উঠছে বড় প্রশ্ন

একবিংশ শতাব্দীতে দাঁড়িয়েও নারীদের প্রকাশ্যে আসার অধিকার নিয়ে বিতর্ক থামছে না। সম্প্রতি সুন্নি নেতা কান্তাথাপুরম এ পি আবুবকর মুসেলিয়ারের একটি মন্তব্য ঘিরে রাজনৈতিক ও সামাজিক মহলে তীব্র ঝড় উঠেছে। তাঁর বক্তব্য ছিল, নারীদের ঘরের ভেতরেই থাকা উচিত এবং জনসমক্ষে তাঁদের আনা হলে বড় বিপদের মুখোমুখি হতে পারে সমাজ। আর এই মন্তব্য ঘিরেই এখন উত্তাল কেরল।

বিতর্কের সূত্রপাত কোথায়?

কেরল বরাবরই শিক্ষা, প্রগতিশীল আন্দোলন এবং নারী ক্ষমতায়নের ক্ষেত্রে দেশের অন্যান্য রাজ্যের কাছে উদাহরণ হয়ে রয়েছে। এমন একটি রাজ্যে দাঁড়িয়ে ধর্মীয় নেতার এই ধরনের মন্তব্য নতুন করে প্রশ্নের মুখে ফেলেছে নারীদের স্বাধীনতা ও সামাজিক অবস্থানকে। যদিও এর জবাবে ওই নেতা পরে সাফাই দিয়ে জানিয়েছেন যে, তাঁর সংগঠনের তৈরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বা বালিকা বিদ্যালয়গুলি প্রমাণ করে যে নারীদের অবমূল্যায়ন তাঁরা করেন না। কিন্তু প্রশ্ন উঠছে— মেয়েদের উচ্চশিক্ষিত করার পর যদি সমাজ বা ধর্ম ঠিক করে দেয় তাঁরা কোথায় দাঁড়াবেন, তবে সেই শিক্ষার সার্থকতা কোথায়?

কেরলের ইতিহাস ও নারীদের লড়াই

কেরলের সমাজ কখনোই একরৈখিক ছিল না। একদিকে যেমন এখানে মাতৃতান্ত্রিক সমাজ ব্যবস্থা এবং মাদার-লাইন প্রথার ঐতিহ্য ছিল, তেমনই অন্যদিকে প্রাচীন আমেজে অবরুদ্ধ নারীদের বন্দিদশার ইতিহাসও কম নেই। তবে যুগের পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে কেরলের নারীরা নিজেদের অধিকারের লড়াই নিজেরাই লড়েছেন।

  • আাক্কাম্মা চেরিয়ান থেকে শুরু করে কে আর গৌরী আম্মা, বা দেশের প্রথম সুপ্রিম কোর্টের নারী বিচারপতি এম ফাতিমা বিবি— প্রত্যেকেই নিজেদের যোগ্যতায় সমাজের মূলস্রোতে জায়গা করে নিয়েছেন।

  • মুখ্যমন্ত্রী ভি ডি সতীশন এই মন্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন, ইসলাম ধর্মের ইতিহাসেও খদিজা কিংবা আয়েশার মতো প্রথিতযশা সফল নারীদের অবদান রয়েছে। ফলে ধর্ম এবং নারীর স্বাধীনতা একে অপরের পরিপন্থী হতে পারে না।

আসল প্রশ্নটা কী?

বিশ্লেষকদের মতে, মূল বিতর্কটা কোনো নারী নিজের ইচ্ছায় গৃহবধূ হয়ে থাকবেন কি না, তা নিয়ে নয়। আসল প্রশ্নটি হলো— একজন নারী নিজের জীবন তিনি কীভাবে কাটাবেন, সেই সিদ্ধান্ত কি সমাজ বা অন্য কেউ ঠিক করে দেবে নাকি ওই নারীর নিজের সেই স্বাধীনতা থাকা উচিত? প্রগতিশীল কেরলের মাটিতে দাঁড়িয়ে এই পুরনো প্রশ্নটিই এখন লাখ টাকার প্রশ্ন হয়ে দেখা দিয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *