লাল, নীল, সবুজ আর কালোই কেন? পাসপোর্টের রঙের আসল রহস্য জানলে অবাক হবেন

এক দেশ থেকে অন্য দেশে ভ্রমণ করতে গেলে পাসপোর্ট অত্যন্ত জরুরি একটি নথি। আর এই পাসপোর্টের ক্ষেত্রে প্রতিটি দেশের নিজস্ব ডিজাইন ও রং থাকে। তবে একটি বিষয় কি কখনো খেয়াল করেছেন? সারা বিশ্বের কোনো দেশের পাসপোর্টই কিন্তু গোলাপি রঙের হয় না! এত রং থাকতে কেন মাত্র কয়েকটি নির্দিষ্ট রংকেই বেছে নেওয়া হয়, তার পেছনে রয়েছে বেশ কিছু চমকপ্রদ কারণ।

কেন মাত্র চারটি রং বেছে নেওয়া হয়?

আন্তর্জাতিক বেসামরিক বিমান চলাচল সংস্থা (ICAO)-এর সুনির্দিষ্ট নিয়ম মেনেই সমস্ত দেশকে পাসপোর্টের ডিজাইন ও ফর্ম্যাট তৈরি করতে হয়। বিমানবন্দরগুলিতে সিকিউরিটি চেকিং এবং স্ক্যানারের সময় পাসপোর্টের প্রচ্ছদ যেন পরিষ্কার ও অফিসিয়াল দেখায়, তা অত্যন্ত জরুরি। গোলাপি বা এই ধরনের হালকা রং আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে পেশাদারিত্বের পরিচয় বহন করে না বলেই এগুলি এড়িয়ে চলা হয়।

সাধারণত বিশ্বের প্রায় সব দেশের পাসপোর্ট মূলত চারটি রঙে দেখা যায়— লাল, নীল, সবুজ এবং কালো। এই রঙগুলির পেছনে রয়েছে আলাদা ঐতিহাসিক ও রাজনৈতিক তাৎপর্য:

  • লাল রং: সাধারণত কমিউনিস্ট ইতিহাস রয়েছে এমন দেশ যেমন চিন, রাশিয়া কিংবা ইউরোপীয় ইউনিয়নের (EU) সদস্য দেশগুলি এই রং ব্যবহার করে।

  • সবুজ রং: এই রংটি মূলত ইসলামিক ঐতিহ্যের প্রতীক হিসেবে পাকিস্তান বা সৌদি আরবের মতো দেশগুলিতে ব্যবহৃত হয়।

  • নীল রং: আমেরিকা, কানাডা এবং ভারতের সাধারণ নাগরিকদের পাসপোর্টে সাধারণত এই রং দেখা যায়, যাকে ‘নিউ ওয়ার্ল্ড’ দেশের প্রতীক বলা হয়।

  • কালো রং: নিউজিল্যান্ডের জাতীয় রং কালো। এছাড়া আফ্রিকার কিছু দেশ ময়লা ও কালচে দাগ এড়াতে এই রং ব্যবহার করে থাকে।

গোলাপি রঙের পাসপোর্ট না থাকার আসল কারণ

পাসপোর্ট সাধারণত ৫ থেকে ১০ বছর পর্যন্ত মেয়াদে ব্যবহৃত হয়। গোলাপি বা অন্য কোনো হালকা রঙের কভারে হাতের ময়লা, তেল কিংবা দাগ খুব দ্রুত বসে যায়, যা নথিটিকে নষ্ট বা মলিন করে তুলতে পারে। পাশাপাশি, গাঢ় রঙের পিগমেন্ট বা কালি তৈরি করাও অনেক বেশি সহজ ও সাশ্রয়ী। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে পাসপোর্টের স্থায়িত্ব, নিরাপত্তা এবং পেশাদার ভাবমূর্তি বজায় রাখতেই গাঢ় রঙের ওপর ভরসা রাখেন বিশ্বের সমস্ত দেশের নীতিনির্ধারকরা।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *