পোস্ট অফিসে টাকা রেখেছেন? অ্যাকাউন্টধারীর মৃত্যুর পর জমানো টাকা কার হাতে যায়, নিয়ম না জানলে বড় বিপদে পড়বেন!

নিয়মিত আয় এবং তুলনামূলক নিরাপদ বিনিয়োগের জন্য সাধারণ মানুষের কাছে পোস্ট অফিসের মান্থলি ইনভেস্টমেন্ট স্কিম (MIS)-এর জনপ্রিয়তা বরাবরই তুঙ্গে। বাজারের ঝুঁকি এড়িয়ে নির্দিষ্ট হারে মাসিক আয় পেতে বহু মানুষ এই সরকারি সঞ্চয় প্রকল্পে বিনিয়োগ করেন। বর্তমানে এই প্রকল্পে ৭.৪ শতাংশ হারে সুদ মিলছে, যেখানে একক অ্যাকাউন্টে সর্বোচ্চ ৯ লক্ষ এবং যৌথ অ্যাকাউন্টে ১৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত বিনিয়োগ করা যায়। কিন্তু প্রশ্ন হলো, অ্যাকাউন্টধারীর হঠাৎ মৃত্যু হলে সেই জমানো টাকার কী হয়? কে পান সেই অর্থ? জেনে নিন পোস্ট অফিসের সুনির্দিষ্ট নিয়মগুলি।
নমিনি থাকলে কী নিয়ম? যদি একক অ্যাকাউন্টধারীর মৃত্যু হয়, তবে তাঁর অ্যাকাউন্টে থাকা সমস্ত টাকা পাওয়ার অধিকার রাখেন মনোনীত নমিনি। এর জন্য নির্দিষ্ট ক্লেম ফর্ম, মূল ডেথ সার্টিফিকেট, পাসবুক এবং প্রয়োজনীয় কেওয়াইসি নথিপত্র পোস্ট অফিসে জমা দিতে হয়। যদি একাধিক নমিনি থাকে এবং তাঁদের ভাগের হার নির্দিষ্ট করা না থাকে, তবে জীবিত নমিনিদের মধ্যে সমান ভাগে সেই অর্থ বণ্টন করা হয়। বর্তমানে সর্বোচ্চ চারজনকে নমিনি করার সুযোগ রয়েছে।
নমিনি না থাকলে কী হবে? অ্যাকাউন্টধারী যদি কোনো নমিনি রেখে না যান, তবে তাঁর আইনি উত্তরাধিকারীরা ওই টাকার দাবিদার হন। ৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত দাবির ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট শর্ত সাপেক্ষে অ্যাফিডেভিট এবং ইনডেমনিটির মাধ্যমে টাকা তোলার সুযোগ থাকে। তবে ৫ লক্ষ টাকার বেশি অঙ্ক হলে আদালতের আইনি সার্টিফিকেট বা যথাযথ উত্তরাধিকার প্রমাণপত্র দাখিল করা বাধ্যতামূলক। ফলে নমিনি না থাকলে আইনি জটিলতায় টাকা হাতে পেতে অনেকটাই বেশি সময় লাগতে পারে।
যৌথ অ্যাকাউন্টের ক্ষেত্রে কী হয়? যৌথ অ্যাকাউন্টের ক্ষেত্রে কোনো এক অ্যাকাউন্টধারীর মৃত্যু হলে অ্যাকাউন্টটি বাতিল হয়ে যায় না। জীবিত অ্যাকাউন্টধারী বা অ্যাকাউন্টধারীরা নিয়মানুযায়ী তা বহাল রাখতে পারেন। ভবিষ্যতের আইনি ঝামেলা এড়াতে তাই প্রতিটি বিনিয়োগকারীরই সময়মতো সঠিক নমিনি যুক্ত করা এবং তার তথ্য আপডেট রাখা অত্যন্ত জরুরি।