ট্রেন বাতিল হওয়ায় বাস টার্মিনাসে উপচে পড়া ভিড়! যাত্রীদের দুর্ভোগ কমাতে এক ধাক্কায় কটি অতিরিক্ত বাস নামল জানেন?

ফরাক্কায় রেললাইনের নীচের মাটি ধসে ব্যাপকভাবে বিপর্যস্ত হয়েছে উত্তরবঙ্গের সঙ্গে দক্ষিণবঙ্গের রেল যোগাযোগ। তিলডাঙা ও নিউ ফরাক্কার মাঝামাঝি এলাকায় এই ধসের জেরে একের পর এক দূরপাল্লার ট্রেন বাতিল করা হয়েছে। এর ফলে কলকাতা ও উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন স্টেশনে আটকে পড়েছেন হাজার হাজার যাত্রী। পরিস্থিতি সামাল দিতে এবার আসরে নামল রাজ্য পরিবহণ দফতর। যাত্রীদের ভোগান্তি কমাতে জরুরি ভিত্তিতে ৪০টি অতিরিক্ত বাস নামানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
রেল পরিষেবা বেহাল: বৃহস্পতিবার থেকেই ফরাক্কার ধসের প্রভাব পড়তে শুরু করে। শুক্রবার পরিস্থিতি আরও জটিল আকার ধারণ করে। এনজেপি থেকে হাওড়াগামী শতাব্দী এক্সপ্রেস সহ সরাইঘাট এক্সপ্রেস, উত্তরবঙ্গ এক্সপ্রেস, কাঞ্চনকন্যা এক্সপ্রেস, দার্জিলিং মেল, পদাতিক এক্সপ্রেস, বন্দে ভারত এক্সপ্রেস এবং অমৃত ভারত এক্সপ্রেস-সহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ট্রেন বাতিল করা হয়েছে। অনেক ট্রেন আবার দীর্ঘক্ষণ দেরিতে চলছে। আকস্মিক এই ট্রেন বাতিলের খবরে স্টেশনে যাত্রীদের ভিড় উপচে পড়ে।
বাস টার্মিনাসেও টিকিটের হাহাকার: ট্রেন বন্ধ থাকায় বিকল্প হিসেবে যাত্রীরা বাস টার্মিনাসগুলির দিকে ছুটছেন। শিলিগুড়ির তেনজিং নোরগে বাস টার্মিনাস এবং কলকাতার বিভিন্ন টার্মিনালে সরকারি বাসের অগ্রিম টিকিট ইতিমধ্যেই শেষ হয়ে গেছে। বেসরকারি বাসেও যাত্রীদের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। কোথাও কোথাও অতিরিক্ত ভাড়ার অভিযোগও উঠেছে, যার ওপর নজর রাখতে নির্দেশ দিয়েছে পরিবহণ দফতর।
রাজ্যের জরুরি পদক্ষেপ: যাত্রীদের এই চরম সংকট থেকে মুক্তি দিতে নড়েচড়ে বসেছে রাজ্য সরকার। পরিবহণ দফতর সূত্রে জানানো হয়েছে, কলকাতা ও শিলিগুড়ির মধ্যে যোগাযোগ স্বাভাবিক রাখতে প্রথম পর্যায়ে ৪০টি অতিরিক্ত বাস চালানোর ব্যবস্থা করা হয়েছে। কলকাতা থেকে শিলিগুড়ি এবং শিলিগুড়ি থেকে কলকাতার রুটের পাশাপাশি উত্তরবঙ্গের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ রুটেও বাস পরিষেবা বাড়ানো হয়েছে। বিশেষ করে সন্ধ্যার দিকে একাধিক বিশেষ বাস ছাড়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে।
পরিবহণমন্ত্রী অর্জুন সিংয়ের সঙ্গে আলোচনা করে এবং স্থানীয় প্রশাসনের সহায়তায় এই জরুরি পদক্ষেপ করা হয়েছে, যাতে সাধারণ মানুষ ও পর্যটকদের ভোগান্তি যত দ্রুত সম্ভব কমানো যায়। এদিকে রেল সূত্রে জানানো হয়েছে, যুদ্ধকালীন তৎপরতায় লাইফ মেরামতের কাজ চলছে, তবে পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক হতে আরও কিছুটা সময় লাগবে।