FIFA vs UEFA War: যুক্তরাষ্ট্রের আদালতে গাল্লাকাটা লড়াই! ফিফা-উয়েফা দ্বন্দ্বে চরম অনিশ্চয়তায় ইনফান্তিনোর ভবিষ্যৎ

বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা এবং ইউরোপীয় ফুটবলের সর্বোচ্চ সংস্থা উয়েফার মধ্যকার বিরোধ এবার যুক্তরাষ্ট্রের আদালত পর্যন্ত গড়িয়েছে। আদালতে ফৌজদারি কার্যক্রমের জন্য প্রমাণ সংগ্রহের অনুমতি চেয়েছে উয়েফা, যার তীব্র সমালোচনা করে একে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অপপ্রচার বলে উড়িয়ে দিয়েছে ফিফা।
যেখান থেকে বিরোধের সূত্রপাত
গত জুলাই মাসে বিশ্বকাপ ও ফুটবলের অন্যান্য ইভেন্ট পরিচালনার জন্য ২০ বিলিয়ন, অর্থাৎ দুই হাজার কোটি ডলার মূল্যের একটি সহযোগী প্রতিষ্ঠান গঠনের উদ্যোগ নেয় ফিফা। ‘ফিফা ফরোয়ার্ড এন্টারপ্রাইজ’ (এফএফই) নামের এই প্রতিষ্ঠানের মালিকানার সর্বোচ্চ ২০ শতাংশ অংশ বাইরের বিনিয়োগকারীদের কাছে বিক্রির পরিকল্পনা করা হয়। কিন্তু এই পরিকল্পনা সামনে আসতেই তীব্র বিরোধিতার মুখে পড়ে ফিফা। উয়েফা পরিষ্কার জানিয়ে দেয়, এমন পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হলে তারা বিশ্বকাপ বয়কট করবে। পাশাপাশি কনকাকাফ এবং এশিয়ান ফুটবল কনফেডারেশনও এর তীব্র প্রতিবাদ জানায়।
আদালতে ফিফা বনাম উয়েফা
এই বিরোধের জেরে উয়েফা নিউ ইয়র্কের আদালতের শরণাপন্ন হয়ে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে সাক্ষ্য ও নথিপত্র সংগ্রহের অনুমতি চেয়েছে, যা তারা সুইজারল্যান্ডে সম্ভাব্য ফৌজদারি কার্যক্রমে ব্যবহার করতে চায়।
অন্যদিকে, কলোরাডোর জেলা আদালতে দাখিল করা এক নথিতে ফিফা দাবি করেছে, এগুলো আইনি নথিপত্র বা মামলার আবেদন নয়; বরং উয়েফার চালানো অপপ্রচারের অংশ মাত্র, যার মূল লক্ষ্য ফিফা ও এর নেতৃত্বের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করা। উয়েফার মূল অভিযোগ, ফিফার সদস্য অ্যাসোসিয়েশন বা পরিচালনা পর্ষদের সঙ্গে পর্যাপ্ত আলোচনা ছাড়াই এই বাণিজ্যিক স্বত্ব হস্তান্তরের পরিকল্পনা করা হয়েছিল। তবে ফিফার পাল্টা দাবি, উয়েফা স্রেফ নিজেদের আধিপত্য বজায় রাখার স্বার্থেই এই প্রস্তাবের বিরোধিতা করছে।
ইনফান্তিনোর সামনে কঠিন পথ
এই সহযোগী প্রতিষ্ঠান গঠনের উদ্যোগের পর থেকেই ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর ওপর চাপ ক্রমশ বাড়ছে। আগামী ২০২৭ সালের মার্চ মাসে চতুর্থ মেয়াদে দায়িত্ব পালনের জন্য তিনি নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার কথা থাকলেও বেশ কয়েকটি দেশ ইতিমধ্যেই সাফ জানিয়ে দিয়েছে যে তারা তাকে সমর্থন করবে না। উয়েফা, কনকাকাফ এবং এএফসি ইনফান্তিনোর কার্যকলাপে তীব্র আপত্তি জানিয়েছে। বর্তমানে কেবল দক্ষিণ আমেরিকা এবং আফ্রিকার কনফেডারেশনগুলোর সমর্থন তাঁর সঙ্গে রয়েছে। পাশাপাশি, এই গোটা বিষয়টিতে একটি স্বাধীন ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবিও তুলেছে উয়েফা।