“উপাচার্য হোন শর্বরী দেবী!”-যাদবপুরের নাম পরিবর্তন নিয়ে বিস্ফোরক মন্তব্য SFI নেতার

যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম পরিবর্তনের প্রস্তাব ঘিরে উত্তাল হয়ে উঠেছে রাজ্য রাজনীতি। ঐতিহ্যবাহী এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নাম বদলে ঋষি অরবিন্দের নামে করার দাবি তুলেছেন বিধায়ক শর্বরী মুখোপাধ্যায়। একই সঙ্গে ক্যাম্পাসের দেওয়াল লিখন, শিক্ষক চিহ্নিতকরণের হুঁশিয়ারি এবং রাজনৈতিক সংঘাতে ফের একবার শিরোনামে উঠে এসেছে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়।
বৃহস্পতিবার যাদবপুরের ত্রিগুণা সেন মঞ্চে এক আলোচনাসভায় অংশ নিয়ে বিধায়ক শর্বরী মুখোপাধ্যায় বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা ঋষি অরবিন্দ ব্রিটিশের বিরুদ্ধে বাঙালি মেধার স্ফুরণ ঘটাতে এই প্রতিষ্ঠান স্থাপন করেছিলেন। তাই অনেক রাষ্ট্রবাদী মানুষের মতো তিনিও মনে করেন, এই বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম ঋষি অরবিন্দের নামেই হওয়া উচিত। প্রয়োজনে রাজ্যপাল বা কেন্দ্রের কাছে গণস্বাক্ষর সংবলিত দাবিপত্র পেশ করা হবে বলেও জানান তিনি।
বিধায়কের এই নামবদলের প্রস্তাবের পরেই তীব্র কটাক্ষ ছুড়ে দিয়েছেন SFI-এর সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক সৃজন ভট্টাচার্য। তাঁর দাবি, শাসকদল নিজেদের আদর্শ ছড়ানোর জন্যেই এই নামবদল করতে চাইছে। তবে ব্যঙ্গের সুরে সৃজন পাল্টা প্রস্তাব দেন যে, বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম সরাসরি নাথুরাম গডসের নামে করা হোক এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য করা হোক শর্বরী মুখোপাধ্যায়কে।
এদিকে ১৯ অগাস্টের ABVP ও বাম ছাত্র সংগঠনের সংঘাতের রেশ কাটেনি এখনও। ক্যাম্পাসে দফায় দফায় বন্দে মাতরম যাত্রা ও বামেদের পাল্টা মিছিলের পাশাপাশি দেওয়াল লিখন ও তা মোছার প্রতিযোগিতা চলছে। ABVP-র পক্ষ থেকে ক্যাম্পাসে ঋষি অরবিন্দ, রবীন্দ্রনাথ, বিদ্যাসাগর ও বঙ্কিমচন্দ্রের ছবি টাঙানো হলেও বামেদের স্লোগান ও চিত্তপ্রসাদের আঁকা মন্বন্তরের ছবি চুনকামে মুছে ফেলার অভিযোগ উঠেছে। পাশাপাশি, আলোচনাসভার মঞ্চ থেকে বিজেপি নেতা রাহুল সিনহা বিশ্ববিদ্যালয়কে ভারতবিরোধী শক্তির ডেরা মুক্ত করতে যুক্ত শিক্ষক ও কর্মীদের চিহ্নিত করে শাস্তির হুশিয়ারি দিয়েছেন। সব মিলিয়ে যাদবপুরের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি ও নামবদলের বিতর্ক এখন চরমে।