পুরনো ঠিকানা বদলালেই কি ভোটাধিকার কাড়বে নির্বাচন কমিশন? শর্মা বিল্ডিংয়ের ২৭ পরিবারের কাণ্ডে শোরগোল

হাতে বৈধ ভোটার কার্ড রয়েছে, বছরের পর বছর ধরে ভোটও দিয়ে আসছেন নিয়মিত। অথচ মহারাষ্ট্রের এসআইআর খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশ পেতেই দেখা গেল, মুম্বইয়ের খার পশ্চিমের শতবর্ষ প্রাচীন শর্মা বিল্ডিংয়ের ২৭টি পরিবারের প্রায় ১০০ জন ভোটারের নামই উধাও হয়ে গিয়েছে তালিকা থেকে। কামাঠিপুরার পর এবার এই ঘটনায় রাজ্যজুড়ে নির্বাচন কমিশনের প্রক্রিয়া নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।

ভবনটি অত্যন্ত জরাজীর্ণ ও বিপজ্জনক অবস্থায় থাকায় দীর্ঘদিন আগেই সেখানে বসবাসকারী পরিবারগুলি অন্যত্র সরে যেতে বাধ্য হয়েছেন। কেউ ভাড়াবাড়িতে উঠেছেন, কেউ বা অন্য কোথাও নতুন ফ্ল্যাট কিনেছেন। কিন্তু তাঁদের ভোটার পরিচয়পত্রে এখনও পুরনো শর্মা বিল্ডিংয়ের ঠিকানাই রয়ে গিয়েছে। নিয়মমাফিক এসআইআর প্রক্রিয়ায় এই পুরনো ঠিকানায় ভোটারদের যাচাই করতে গিয়েই বিপত্তি বাঁধে। বাড়ি খালি থাকায় তাঁদের নাম খসড়া তালিকা থেকে বাদ পড়ে যায়।

শর্মা বিল্ডিংয়ের ৪৪ বছর বয়সি প্রাক্তন বাসিন্দা আতিক আহমেদ খান সংবাদমাধ্যমকে জানান, তিনি লোকসভা ও বিধানসভা সহ বহু নির্বাচনে এই নির্দিষ্ট ঠিকানা থেকেই আট থেকে দশবার ভোট দিয়েছেন। তাঁর কাছে বৈধ ভোটার কার্ড থাকা সত্ত্বেও এবারের খসড়া তালিকায় তাঁর নাম খুঁজে পাওয়া যায়নি। স্থানীয় বুথ লেভেল অফিসার বা বিএলও-র সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তাঁকে নতুন করে ফর্ম ৬ পূরণ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। প্রশ্ন উঠছে, বিএলও-রা যদি পুরনো ঠিকানায় থাকা ভোটারদের সঙ্গে ফোন বা অন্য মাধ্যমে যোগাযোগ করে তাঁদের নতুন ঠিকানা যাচাই করতেন, তবে কি এই ভোগান্তি এড়ানো যেত?

নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে অবশ্য জানানো হয়েছে, খসড়া তালিকা থেকে নাম বাদ যাওয়ার অর্থ এই নয় যে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির নাম স্থায়ীভাবে ভোটার তালিকা থেকে মুছে ফেলা হয়েছে। এটি একটি চলমান প্রক্রিয়া এবং এর বিরুদ্ধে দাবি ও আপত্তি জানানোর পূর্ণ সুযোগ রয়েছে। মহারাষ্ট্রের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের ওয়েবসাইটে ফর্ম ৬, ফর্ম ৭ এবং ফর্ম ৮-এর মাধ্যমে নাম সংযোজন, বিয়োজন ও ঠিকানা পরিবর্তনের আবেদন করা যাবে।

পরিসংখ্যান বলছে, মহারাষ্ট্রের এসআইআর খসড়া ভোটার তালিকায় আগের তুলনায় প্রায় দুই কোটি ছয় লক্ষ ভোটারের নাম কম দেখা যাচ্ছে। রাজ্যের আগের ভোটার সংখ্যা প্রায় ৯ কোটি ৭৮ লক্ষ হলেও, নতুন খসড়া তালিকায় তা কমে দাঁড়িয়েছে প্রায় ৭ কোটি ৭১ লক্ষ। শুধু মুম্বইতেই প্রায় ৩৬ লক্ষ ভোটারের নাম হ্রাস পেয়েছে। মূলত মৃত, স্থানান্তরিত, অনুপস্থিত এবং একই নামের পুনরাবৃত্তি রোধ করতেই এই তালিকা সংশোধনের কাজ চলছে। তবে শর্মা বিল্ডিংয়ের এই ঘটনা সাধারণ মানুষের মনে গভীর সংশয়ের সৃষ্টি করেছে যে, ঘর বদলের কারণে নাম তোলার দায় কি কেবল সাধারণ ভোটারেরই কাঁধে থাকবে, নাকি প্রশাসনের আরও কিছুটা দায়িত্বশীল হওয়া উচিত ছিল?

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *